Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কেবল নথি পরীক্ষাই নয়, পাসপোর্ট ডেলিভারিতেও প্রবল কড়াকড়ি চালু

কেবল নথি পরীক্ষাই নয়, পাসপোর্ট ডেলিভারিতেও প্রবল কড়াকড়ি চালু
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, মালদহ: পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের বাড়বাড়ন্ত প্রকাশ্যে আসতেই একাধিক স্তরে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। শুধু আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় পোস্টঅফিস বা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগে আবেদনকারীর নথি পরীক্ষার সময়ই নয়, আবেদনকারীর হাতে পাসপোর্ট তুলে দেওয়ার সময়ও নেওয়া হচ্ছে একাধিক সতর্কতা। কোনওভাবেই যেন ভুয়ো পাসপোর্ট চক্র ফের মাথা চাড়া দিতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই আবেদনের সময় থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত একাধিক স্তরে এই কড়াকড়ি বলে জানা গিয়েছে।
Advertisement
বিদেশ মন্ত্রকের কলকাতা আঞ্চলিক পাসপোর্ট দপ্তর থেকে ইস্যু হওয়ার পরে এ রাজ্যের বাসিন্দাদের পাসপোর্ট পাঠানো হয় আবেদনকারীর নির্দিষ্ট ঠিকানায়। স্পিড পোস্টের মাধ্যমে ওই পাসপোর্ট পাঠানো হয়। ভারতীয় ডাক বিভাগের মাধ্যমেই এই পাসপোর্ট পেয়ে থাকেন আবেদনকারীরা। আগে আবেদনকারী স্বশরীরে নির্দিষ্ট ঠিকানায় না থাকলেও তাঁর নিকটাত্মীয়ের হাতে পাসপোর্ট তুলে দেওয়া হতো ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে। কিন্তু পাসপোর্ট জালিয়াতি কাণ্ড সামনে আসার পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই ব্যবস্থা।
মালদহ শহরের একটি পোস্টঅফিসের ডাক বিভাগের একজন পোস্টম্যান বলেন, আমাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আবেদনকারী ছাড়া অন্য কারও হাতে পাসপোর্ট ডেলিভারি না করার জন্য। আমরা ওই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলছি। আবেদনকারীর মা, বাবা, স্বামী বা স্ত্রীর হাতেও পাসপোর্ট ডেলিভারি করা সম্ভব নয়।
পোস্টঅফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাসপোর্ট আবেদনকারীর কাছে ঠিক কোথায় ডেলিভারি করা হল তা জানার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যিনি আবেদনকারী তিনি নিজেই স্বাক্ষর করে পাসপোর্ট নিয়েছেন কি না তাও নিশ্চিত করতে হচ্ছে। থাকছে ডেলিভারি লোকেশনের জিও ট্যাগিং ব্যবস্থাও। আবেদনকারী পাসপোর্ট রিসিভ করার পরে যে স্বাক্ষর করছেন তা স্ক্যান করে এক্সেল শিটের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট ঠিকানায় অথবা পোস্টঅফিসে নিজে স্বাক্ষর করে পাসপোর্ট রিসিভ করেছেন কি না তা খুঁটিয়ে দেখছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। 
পাসপোর্টের নথি ভেরিফিকেশন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এক পুলিস আধিকারিক বলেন, আমাদের কাছেও নির্দেশ এসেছে প্রত্যেক আবেদনকারীর ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখার জন্য। তিনি কতদিন ধরে এদেশে রয়েছেন, কী করেন ইত্যাদি সব কিছুই কঠোরভাবে পরীক্ষা করে দেখার পরেই পুলিসের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। মালদহ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এই কড়াকড়ি অত্যন্ত বেশি বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ