সংবাদদাতা, কাটোয়া: তীব্র দাবদাহে শরীরে অতিরিক্ত জলের চাহিদা মেটাতে তালশাঁসে মজেছেন শহরের বাসিন্দারাও। গ্রাম থেকে তালের কাঁদি নিয়ে কাটোয়া শহরে প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন বিক্রেতারা। দেদার বিক্রি হচ্ছে তালশাঁস। পাঁচ টাকাতেই মিলছে প্রতি শাঁস। ফলে শহরে বসেও গ্রামের স্বাদ নিচ্ছেন বাসিন্দারা। শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়গুলিতে প্রচুর তাল নিয়ে হাজির হচ্ছেন গ্রামের মানুষ। তালের শাঁস খেয়ে সবাই অতীত স্মৃতিতে ডুব দিচ্ছেন।
দাবদাহে পুড়ছে রাজ্য। স্বস্তি পেতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ার প্রবণতাই বেশি। তবে এই গরমে বেশির ভাগ মানুষ খুঁজছেন তালশাঁস। কাটোয়া শহর জুড়ে গরমে দেদার বিক্রি হচ্ছে এই তালশাঁস। কাটোয়া শহরের ন্যাশানাল পাড়া, কাছারি রোড, পুরসভা মোড়, লেলিন সরনি, শাঁখারিপট্টী, পানুহাট এসব জায়গাগুলিতে প্রতিদিন তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে দেদার। প্রতি পিস তালশাঁস বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায়। আবার প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। তাতেই লাভের মুখ দেখছেন বিক্রেতারা।
কাটোয়ার গুসম্বা গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ পণ্ডিত, মামনি পণ্ডিতরা কাটোয়া শহরে তালের কাঁদি নিয়ে পসরা সাজিয়েছেন৷ বিকাশ বলছেন, গরমে গ্রামে সবাই তাল খান। কিন্তু শহরের বাসিন্দারা তো সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন। তবে এখানে তালের শাঁস চেখে দেখে পুরানো স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে পারছেন সবাই। আমাদেরও দু’পয়সা বাড়তি আয় হচ্ছে।
আরএক বিক্রেতা হৃদয় হাজরা বলেন, প্রতি বছর কাটোয়া শহরে তাল শাঁস বিক্রি করতে আসি। গ্রামে তাল গাছে ওঠা কষ্টকর। আমরা গাছ মালিকের থেকে চুক্তি করে তাল কেটে নিয়ে আসি। যা পাই তা দিয়েই আমাদের চলে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, তালশাঁসে জলের পরিমাণ থাকে ৯০ শতাংশেরও বেশি। ফলে প্রচণ্ড গরমে তালের শাঁস খেলে শরীর আর্দ্র থাকবে। তাছাড়া তালশাঁসে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জ়িঙ্কের মতো খনিজ। আছে প্রচুর ফাইবারও। এসব কিছুই শরীরকে নানা ভাবে ভাল রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে তালশাঁস। এ ছাড়া কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্যে করে। আর তালশাঁসে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকায় ত্বক ভাল রাখতে সাহায্যে করে। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে আইসক্রিম, কোল্ডড্রিংকের বদলে তালশাঁস খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। গরমে তালশাঁস শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতেও সাহায্য করে।
কাটোয়া শহরের দ্বিতীয়া সাহা, দিপালী রায়, নিমাই দাসরা বলেন, আমরা ছোটোবেলায় যখন গ্রামে থাকতাম তখন তালশাঁস খেতাম। কিন্তু শহরে তালশাঁস প্রায় ভুলতেই বসেছিলাম। এখন শহরে থেকে পয়সা দিয়ে কিনে খেতে হচ্ছে। তাই শহরে বসেও গ্রামের স্বাদ পাচ্ছি।