সংবাদদাতা, রামপুরহাট: টানা বৃষ্টির জেরে মাটির বাড়ির দেওয়াল ধসে মৃত্যু হল এক গৃহবধূর। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রামপুরহাট ১ ব্লকের কাষ্ঠগড়া পঞ্চায়েতের সুফলকুড়ি গ্রামে। বছর পঁয়ত্রিশের মৃত গৃহবধূর নাম মাইতি টুডু। এই গ্রামের কেউই কেন্দ্রের আবাস যোজনার বাড়ি পাননি। স্বভাবতই এই মৃত্যুতে গ্রামে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একে অপরকে দুষছে শাসক ও বিরোধী দল। মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটির চালাঘরের বারান্দায় বছর আঠারোর মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন মাইতি। ঘরের ভিতরে ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন স্বামী আমিন টুডু। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দিনমজুর। রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি থামতে ভোর তিনটে নাগাদ আচমকাই বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়ে। চাপা পড়েন মা ও মেয়ে। আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা এসে দুজনকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে মৃত্যু হয়েছে মাইতির। মেয়ে সোনামনি টুডুর কানে আঘাত লাগলেও তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রের বঞ্চনাকেই দায়ী করেছে মৃতার পরিবার। মৃতের স্বামীর দাবি, আবাস যোজনায় পাকা বাড়ির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। আজ পাকা বাড়ি থাকলে এভাবে স্ত্রীকে প্রাণ হারাতে হতো না।
এদিকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য শেফালি হেমব্রম বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারটির পাশে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসন রয়েছে। তিনি বলেন, এই গ্রামে ৬০টি বাড়ি। যার অধিকাংশই মাটির। কেন্দ্রের আবাস যোজনায় গ্রামের একজনও বাড়ি পাননি। পাকা বাড়ি থাকলে এভাবে অকালে চলে যেতে হত না মাইতিকে। গরীর মানুষের জন্য প্রকল্প আবাস থেকে একশো দিনের কাজ। পঞ্চায়েত প্রধান পিঙ্কি মণ্ডলও বলেন, সরকারি বাড়ি সার্ভের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত প্রধান বা সদস্যদের কোনও হাত ছিল না। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় বঞ্চনা।
এলাকার তৃণমূল নেতা তপনুকমার মণ্ডল বলেন, সেই সময়ে সরকারি বাড়ির ক্ষেত্রে সার্ভে থেকে জিও ট্যাগিং সবই হয়েছে কেন্দ্রের নির্দেশে। নরেন্দ্র মোদির সরকার আবাস যোজনায় তালিভুক্তদের নাম কেটে বাদ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে টাকা দেননি। আজ যদি ঠিক সময়ে আবাস যোজনার টাকা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা বাড়ি প্রকল্পে এই অঞ্চলের ১৯০ জনকে টাকা দিয়েছেন। পরবর্তীতে ওই গ্রামের বাসিন্দারাও সেই টাকা পাবেন। তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে এলাকার বিজেপি নেতা প্রবোধকুমার সাহা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে কেন্দ্র সরকার রাজ্যের হাত দিয়েই অর্থ খরচ করেন। কিন্তু তৃণমূলের নিচুস্তরের নেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো নাম আবাসের তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন। তাই কেউ একাধিকবার আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। প্রকৃত গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছেন। আর আবাস বা একশো দিনের টাকা কেন্দ্র কেন দিচ্ছে না, তা মানুষের কাছে পরিষ্কার। হিসেব না দিলে কেন টাকা দেবে কেন্দ্র। এই মৃত্যর জন্য দায়ী তৃণমূলই। এদিকে আবেদন করার পরও ওই গ্রামের একজনও কেন আবাস যোজনার সুবিধা পেল না, সেই প্রসঙ্গে বিডিও অঙ্কুর মিত্র বলেন, এ ব্যাপারে না দেখে কিছু বলতে পারব না। তবে মৃতের পরিবার যাতে সরকারি সুবিধা পায় সেটা দেখা হচ্ছে। সুফলকুড়ি গ্রামে মৃত গৃহবধূর শোকার্ত পরিবার।-নিজস্ব চিত্র