বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: প্রথমবার একা। কেউ নেই সঙ্গে। ঠিক-ভুল, বিপদ-আপদ, সব নিজেকে সামলাতে হবে। তবু মনের জোর আর অদম্য সাহসে ভর করে অনেকেই বেরিয়ে পড়েন। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র কেউ আবার জঙ্গল। নিজের মতো করে একা ঘুরে সবটা উপভোগ করেন। এইসব সোলো ট্রাভেলারদের অন্যতম পছন্দের ঠিকানা হয়ে উঠছে কাশ্মীর।
শীতকালে চারদিক বরফ ঢাকা। কিন্তু গরমের সময়টা বেশ উপভোগ্য। তাই গ্রীষ্মের শুরুতেই কাশ্মীরে ভিড় বাড়াতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। এঁদের মধ্যে সোলো ট্রাভেলার অর্থাৎ একা একা ঘুরতে এসেছেন এমন ভ্রমণকারীর সংখ্যাই বেশি। এক বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা বলছে, ২০২৬ সালে ৭৬ শতাংশেরও বেশি পর্যটক স্বাধীনভাবে ভ্রমণ বেছে নিচ্ছেন। বিশ্বের প্রায় সব পর্যটন ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে। জুড়েছে কাশ্মীরের নামও। কাশ্মীরের ট্রাভেল এজেন্টদের কথায়, পহেলগাঁও হামলার পর প্রায় এক বছর কাশ্মীরে সোলো ট্রাভেলারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। ধীরে ধীরে সেই ছবি বদলাচ্ছে। ট্রাভেল এজেন্ট ফারাহ রশিদের কথায়, ‘খুব বেশি না হলেও ইদানীং অনেকেই একা ঘুরতে আসার বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মূলত অফবিট জায়গাগুলো একা ঘুরতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এঁরা। এই দলে মহিলা পর্যটক ও কনটেন্ট নির্মাতার সংখ্যাই বেশি।’ ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব কাশ্মীর (টিএএকে)-এর সভাপতি ফারুক আহমেদ কুঠু জানান, ‘কাশ্মীরের উন্নত পর্যটন পরিকাঠামো, হোমস্টের বৃদ্ধি এবং উন্নত ইন্টারনেট সংযোগ সোলো ট্রাভেলারদের জন্য সবকিছু আরও সহজ করে তুলেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগে অধিকাংশ বুকিং আসত পরিবার বা বড় দলের কাছ থেকে। এখন অনেক পর্যটক একাই ট্রাভেল এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ট্রেকিং করতে চাইছেন। অফবিট গন্তব্য খুঁজছেন। প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্র ছাড়িয়ে গুরেজ ভ্যালি, বাঙ্গুস ভ্যালি, ইউসমার্গ কিংবা ট্রেকিং রুটগুলির প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে।’ কুঠুর দাবি, এই প্রবণতায় সোশ্যাল মিডিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক সোলো ট্রাভেলার রিল, ভ্লগ দেখে কাশ্মীরের অজানা জায়গা সম্পর্কে জানতে চাইছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাভেল ফিনটেক সংস্থা সানক্যাশের সাম্প্রতিক গবেষণায়ও দেখা গিয়েছেছে, প্রায় ৩৫ শতাংশ সোলো ট্রাভেলার ছুটি কাটানোর জন্য জম্মু ও কাশ্মীরকেই পছন্দ করছেন। - ফাইল চিত্র