নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কসবা ল‑কলেজ গণধর্ষণ‑কাণ্ডে অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী পিনাকি বন্দ্যোপাধ্যায় ১০৮ দিনের মাথায় জামিন পেলেন। সোমবার আলিপুরের জেলা আদালত ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন। জেল হেপাজতে থাকা ওই অভিযুক্তের জামিনের আর্জি একাধিকবার খারিজ করে দিয়েছিল আলিপুর মহকুমা আদালত। এরপরই আলিপুরের জেলা আদালতে ধৃতের জামিনের আর্জি জানানো হয়। পুজোর ছুটির মধ্যেই সোমবার জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য বসে বিশেষ আদালত। সেখানে এই মামলায় ধৃতের তরফে দীর্ঘ শুনানির পর বিচারক অভিযুক্তের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিন শুনানি চলাকালে এই মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, এমন একটি স্পর্শকাতর মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া কোনও মতেই সমর্থন যোগ্য নয়। কারণ, অভিযুক্ত জামিন পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি বিষয়টি বেমালুম চেপে গিয়ে ছিলেন। কলেজের মূল গেট বন্ধ করে দিয়ে ছিলেন। অন্য অভিযুক্তদের জন্য গার্ডরুম খুলে দেন। যদিও ধৃতের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টচার্য বলেন, এই মামলায় অনেক আগেই চার্জশিট হয়ে গিয়েছে। মামলায় নতুন কোনও অগ্রগতি নেই। তাই অভিযুক্তকে অহেতুক জেল হাজতে আটকে রাখার কোনও যুক্তি নেই। আর তাছাড়া এই ঘটনায় আমার মক্কেলের কোনও ভূমিকা নেই। এই কাণ্ডে নির্যাতিতা বিচারকের কাছে যে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে আমার মক্কেলের ঘটনার সঙ্গে জড়িত, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। তাঁর মক্কেলের পালিয়ে যাওয়ারও কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই যে কোনও শর্তে তাঁর জামিনের আর্জি মঞ্জুর করা হোক। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং মামলার বিভিন্ন নথি ও কেস‑ডায়েরি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তের জামিনের আর্জি মঞ্জুর করেন। গত ২৫ জুন সংশ্লিষ্ট কলেজে এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল। নির্যাতিতা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। যার মধ্যে ছিলেন এই অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষী।