সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: দুই ছেলে কার্তিক আর গণেশকে ছাড়াই মা আসেন নৈহাটির শ্যামাসুন্দরীতলার ভট্টাচার্য বাড়িতে। তবে সঙ্গে নিয়ে আসেন দুই মেয়ে লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে। কেন আনেন না কার্তিক-গণেশকে? সেই কাহিনি বহু পুরনো।
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: দুই ছেলে কার্তিক আর গণেশকে ছাড়াই মা আসেন নৈহাটির শ্যামাসুন্দরীতলার ভট্টাচার্য বাড়িতে। তবে সঙ্গে নিয়ে আসেন দুই মেয়ে লক্ষ্মী আর সরস্বতীকে। কেন আনেন না কার্তিক-গণেশকে? সেই কাহিনি বহু পুরনো।
ভট্টাচার্য পরিবারের অন্যতম কর্তা হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য শোনালেন সেই অলৌকিক কাহিনি। তাঁর কথায়, এই পুজোর বয়স এবার ৩২৫ বছর। আগে দুর্গার সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক এবং গণেশের পুজো হতো। প্রায় আড়াইশো বছর আগে, মাকে দেওয়া ভোগ আগেভাগে খেয়ে নিয়েছিলেন দুই ছেলে। মা দুর্গার আর ভোগ জোটেনি সেদিন। কিন্তু খিদের জ্বালা, সে কি সহ্য হয়! মা ক্রুদ্ধ হয়ে খিদের টানে খেয়ে নিয়েছিলেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক বালিকাকে। সেদিনই গ্রামের ওই বালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। চারদিকে হইচই, শুরু হয় খোঁজাখুজি। রাতে বাড়ির পুরোহিতকে মা স্বপ্নে জানান দেন— ভোগ না পেয়ে খিদের জ্বালায় তিনি নিজেই ওই বালিকাকে খেয়ে ফেলেছেন। গিয়ে
দেখ, এখনও আমার ঠোঁটের কাছে ওই বালিকার শাড়ির একটা অংশ ঝুলছে। ভবিষ্যতে তোমরা আর কার্তিক-গণেশকে আনবে না। আমি ওদের আচরণে খুবই অসন্তুষ্ট হয়েছি। এই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর পুরোহিত তড়িঘড়ি ছুটে যান মায়ের মূর্তির সামনে। গিয়ে দেখেন, সত্যি, মায়ের ঠোঁটের কোনে শাড়ির আঁচলের একটি অংশ
ঝুলছে। হরপ্রসাদবাবু বলেন, সেই বছর থেকেই এই বাড়িতে গণেশ আর কার্তিককে আনা হয় না। পুজোও পান না তাঁরা। তবে লক্ষ্মী ও সরস্বতী পুজো পান মা দুর্গার
সঙ্গে। একইসঙ্গে গৃহকর্তার সংযোজন, মা দুর্গার বাহন সিংহ এখানে থাকে অন্য রূপে। সে থাকে নরসিংহের বেশে।
ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে নৈহাটিতে। হরপ্রসাদবাবু বললেন, একবার পুজোর সময় পদ্ম পাওয়া যাচ্ছিল না। খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম আমরা। সর্বত্র খোঁজা হয়। কিন্তু কোথাও মেলেনি পদ্ম। হঠাৎ একঅচেনা, অজানা বালক এসে হাজির। সে এক ধামা পদ্ম দিয়ে চলে যায়। সবাই অবাক। পিছু ফিরে তাকাতেই বালকটি উধাও হয়ে যায়।
এমন নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে আমাদের বাড়ির পুজোকে ঘিরে। পুজোতে মাকে খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হয়। দেওয়া হয় পাঁচ রকম ভাজা, সবজি, চাটনি, মিষ্টান্ন। কোনও আমিষ ভোগ হয় না।
পঞ্চমী থেকেই শুরু হয় পুজো। এই পুজোকে ঘিরে পরিবারের সদস্যরা, যাঁরা বাইরে থাকেন, তাঁরা দূর-দূরান্ত থেকেও চলে আসেন বাড়িতে। হই-হট্টগোলে মেতে ওঠে পরিবার। -নিজস্ব চিত্র