Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উচ্চ মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল কেন্দ্রা গ্রামের কার্তিকের, হতে চায় শিক্ষক

উচ্চ মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল কেন্দ্রা গ্রামের কার্তিকের, হতে চায় শিক্ষক
  • ২৭ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: বাবা মাটির হাঁড়ি, কলসি তৈরি করেন। মা গৃহস্থালির কাজ সামলান। বাজারে নিজেদের হাতে তৈরি মাটির হাঁড়ি, কলসি বিক্রি করে কিছু টাকা রোজগার হয়। সেই টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি ছেলের পড়াশুনার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয় বাবাকে। পড়াশোনার ফাঁকে বাবাকেও মাটির জিনিসপত্র তৈরিতে সাহায্য করতে হতো পুঞ্চা ব্লকের বালকডি কেবি এম হাই স্কুলের ছাত্র কার্তিক পালকে। অভাবের সঙ্গে লড়াই করেও উচ্চমাধ্যমিকে ৪৫২ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়েছে কার্তিক। আগামী দিনে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে কার্তিক। কিন্তু অভাবের সংসারে কিভাবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাবে, কিভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে তা নিয়ে চিন্তিত কার্তিক সহ গোটা পরিবার। তবে দারিদ্রকে জয় করে একদিন সফল হবেই আশা কার্তিকের।

Advertisement

পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের কেন্দা গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক পাল। স্থানীয় বালকডি কেবি এম হাইস্কুলে থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছে সে। কার্তিক বাংলায় ৮০, ইংরেজিতে ৭১, ইতিহাস ৮৬, দর্শনে  ৯৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯৪, এডুকেশনে ৯৮ নম্বর পেয়েছে। ঐচ্ছিক বিষয় বাদে ৯০.৪ শতাংশ নম্বর পেয়েছে। কার্তিকের দাদা এবং এক দিদি রয়েছে। দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দাদা পড়াশোনা করে চাকরির চেষ্টা করছেন। মা শীতলা পাল বাড়ির কাজ করেন। বাবা হারাধন পাল মাটির হাঁড়ি,কলসি থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস তৈরি করেন। সেই টাকায় যা রোজগার হয় তাতেই চারজনের সংসার চলে। সেই সঙ্গে ছেলেদের পড়াশোনার খরচ। কার্তিক জানান, পরিবারের অভাব রয়েছে। আমাদের সামান্য কিছু জমি রয়েছে। বাড়িতে তৈরি মাটির কলসি, হাঁড়ি জিনিসপত্র বিক্রি করে রোজগার চলে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সাথে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতে হয়। বর্তমান দিনে মাটির জিনিসের চাহিদা কমেছে। তাই সংসারে অভাব অনটন থেকেই থাকে। আগামী দিনে শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে।
কার্তিক পাল পঞ্চম শ্রেণি থেকেই কেন্দার বালকডি কেবি এম হাই স্কুলে পড়তো। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় ইচ্ছা শক্তি প্রবল ছিল তাঁর।  আর্থিক অনটনের কারণে টিউশন নেওয়ারও সুযোগ ছিল না। দ্বাদশ শ্রেণির শুরুতে গ্রামের একটি কোচিং সেন্টারে পড়ত। পরে আর্থিক দুরবস্থার কারণে সেটাও ছেড়ে দিতে হয়। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ওই স্কুলের থেকে যারা মাধ্যমিক দিয়ে ভালো ফলাফল করেছিল তাদেরকেও টপকে স্কুলের প্রথম হয়েছে কার্তিক। তার এরকম সাফল্যে গর্বিত স্কুল কর্তৃপক্ষ। 
বালকটি কেবিএম হাই স্কুলের শিক্ষক কালাচাঁদ মাহাতো বলেন, কার্তিক খুব মেধাবী ছাত্র। প্রতিদিন নিয়মিত স্কুলে আসত। ওর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। নিজের চেষ্টায় সে ভালো ফলাফল করেছে। স্কুলের প্রথম হয়েছে। কার্তিক বলেন, তার এরকম সাফল্যের পিছনে রয়েছে তার বাবা-মা দাদা সহ স্কুলের মাস্টারমশাইরা। তার এরকম ফলাফলে খুশি তার বাবা-মা থাকে শুরু করে পাড়া পড়শীরাও। শিক্ষকতার জন্য আগামী দিনে বি এল এড এ ভর্তি হবার ইচ্ছে রয়েছে। সফল হয়ে পরিবারের অভাব দূর করব আশা কার্তিকের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ