Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষকের গাফিলতিতে তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা দিতে পারল না করিমপুরের ছাত্র

তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও করিমপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের গাফিলতিতে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা দিতে পারল না।

শিক্ষকের গাফিলতিতে তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা দিতে পারল না করিমপুরের ছাত্র
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, করিমপুর: তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও করিমপুরে পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের গাফিলতিতে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা দিতে পারল না। শুক্রবার ওই ছাত্র তন্ময় পাল নিজের স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার করিমপুর জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে সিট পড়েছিল শিকারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র তন্ময়ের। এদিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তার বাংলা বিষয়ের চতুর্থ সেমেস্টারের এবং তারপরে তৃতীয় সেমেস্টারের সাপ্লি পরীক্ষা ছিল। প্রথমে চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা দিলেও অ্যাডমিট না নিয়ে যাওয়ায় সাপ্লি পরীক্ষায় নাম নেই বলে তাকে পরীক্ষায় বসতে দেয়নি ওই কেন্দ্রের শিক্ষকরা।
জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রকে বলা হয়, তালিকায় তার নাম নেই। সেজন্য সে পরীক্ষা দিতে পারবে না। তন্ময় বারবার শিক্ষকদের বলে সে অ্যাডমিট কার্ড আনতে ভুলে গিয়েছে।

Advertisement

কিন্তু তার কোনও কথা শোনেননি ওই কেন্দ্রের শিক্ষকরা। বাধ্য হয়ে তন্ময় পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে বাড়ি চলে যায়। এই ঘটনার ঠিক এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে শিকারপুর স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ফোন করে বলা হয় তালিকায় ওই ছাত্রের নাম আছে। সে যেন এসে পরীক্ষা দিয়ে যায়। কিন্তু, ওই ছাত্রের কাছে ফোন না থাকায় প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।  পরীক্ষা দিতে না পারা ছাত্র তন্ময় পালের অভিযোগ, তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষায় অকৃতকার্য থাকায় এদিন চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষার পর তৃতীয় সেমেস্টারের কম্পার্টমেন্টাল পাওয়া বিষয়ে পরীক্ষার দিন ছিল। ভুল করে এদিন একটি অ্যাডমিট নিয়ে গিয়েছিলাম। পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক লিস্টে আমার নাম নেই বলে আমাকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। শিক্ষকদের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমাকে পরীক্ষা দিতে দেয়নি।  লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও আমি ওই শিক্ষকের গাফিলতিতে পরীক্ষা দিতে পারলাম না। আমার একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল। এর দায় কে নেবে? এ বিষয়ে শিকারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণকুমার প্রামাণিক বলেন, সরকারি নির্দেশিকায় আছে কোনও ছাত্র যদি পরীক্ষা কেন্দ্রে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যেতে ভুল করে তাহলে ওই ছাত্রকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পরে ছাত্রের বাড়িতে যোগাযোগ করে তার অ্যাডমিট আনার ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়ে জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রজতকুমার সরকার কোনও মন্তব্য করতে চাননি। করিমপুর-১ ব্লকের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক তথা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সেন্টার ইন চার্জ বদিউজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন ঘটনা ঘটলে তা খুবই দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ