Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নারী-বান্ধব পঞ্চায়েত গড়ে কেন্দ্রের বিশেষ পুরস্কার পেলেন করিমপুরের মহিলা প্রধান

পঞ্চায়েতে সার্বিক কাজে সাফল্যের নিরিখে কেন্দ্রের বিশেষ পুরস্কার পেলেন করিমপুর-১ পঞ্চায়েত প্রধান সুপর্ণা মুখোপাধ্যায়।

নারী-বান্ধব পঞ্চায়েত গড়ে কেন্দ্রের বিশেষ পুরস্কার পেলেন করিমপুরের মহিলা প্রধান
  • ৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

কল্লোল প্রামাণিক, করিমপুর: পঞ্চায়েতে সার্বিক কাজে সাফল্যের নিরিখে কেন্দ্রের বিশেষ পুরস্কার পেলেন করিমপুর-১ পঞ্চায়েত প্রধান সুপর্ণা মুখোপাধ্যায়। বুধবার দিল্লির বিজ্ঞানভবনে তাঁর হাতে ‘সশক্ত পঞ্চায়েত নেত্রী’ সম্মান-স্মারক তুলে দেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই পুরস্কার পেলেন একমাত্র সুপর্ণাদেবী। গোটা দেশে মোট ১৫০ জন পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে ১৮ জনের হাতে সরাসরি সম্মান-স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সেই তালিকায় ছিলেন সুপর্ণাদেবী। স্বাভাবিকভাবেই, করিমপুর সহ গোটা নদীয়া জেলায় অন্তর্জাতিক নারীদিবসে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে করিমপুর-১ পঞ্চায়েত।

Advertisement

সুপর্ণাদেবীর এই সাফল্যে গর্বিত ব্লক প্রশাসন। মহিলা প্রধান হিসেবে তাঁর কাজকর্মকে কুর্নিশ জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েতে সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রান্তিক মহিলাদের আর্থ-সামাজিক বিকাশেও সুপর্ণাদেবী অনবদ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছেনে। তাঁদের উন্নয়নেও সামিল করেছেন। পঞ্চায়েতে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ১৩৬ জন ঘর পেয়েছেন।  এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণ, নারী সুরক্ষা  ও তাঁদের  সামাজিক মর্যাদা রাক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই মহিলা প্রধান। স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসিয়েছেন পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিলের টাকায়। সবমিলিয়ে, মহিলা-বান্ধব পঞ্চায়েত গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন সুপর্ণাদেবী। 
এ ছাড়াও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে পঞ্চায়েতে ১৫ জন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের কাজে লাগিয়ে ৮৯৫টি বাড়ি ও ১৩৭টি দোকান ও অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে প্রতিদিন আবর্জনা সংগ্রহের ব্যবস্থা গড়েও নজির গড়েছেন পঞ্চায়েত প্রধান। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে প্রতিমাসে এলাকার স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত অফিসের কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা দের সঙ্গে বৈঠক করেন। গ্রামীণ মহিলাদের উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করতে নিয়মিত ২১৬টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনার করে রূপরেখা তৈরি করেন। তাঁর আমলে ৭৫৮৭ জন মহিলা আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। ৬৬৯ জন বিধবা মহিলা ও ১০৩৭ জন বৃদ্ধ-বৃদ্ধার ভাতা চালু হয়েছে। এসব সাফল্যও তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তিতে অনুঘটকের কাজ করেছে। 
পঞ্চায়েতে প্রশাসনিক কাজকর্মেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সুপর্ণাদেবী। বিগত অর্থবর্ষে ৩৬২৯ জনকে আয়ের শংসাপত্র, ৮২২৫ বাসস্থানের শংসাপত্র ৩৪৩২ জনকে উত্তরাধিকার শংসাপত্র প্রদান করেছেন স্বচ্ছতার সঙ্গে। পঞ্চায়েতের আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। চলতি অর্থবছরে গৃহকর বাবদ ১১ লক্ষ টাকার বেশি আয় হয়েছে। হাট বাজার থেকে ৬৫ হাজারের বেশি কর জমা পড়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করে ২ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা জমা হয়েছে পঞ্চায়েতের তহবিলের।  অন্যান্য কর বাবদ প্রায় ৫ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করেছে পঞ্চায়েত। সেই অর্থের একটা অংশ ব্যায় সুপর্ণাদেবী ব্যায় করে পঞ্চায়েত অফিসে তৈরি করেছেন প্রসূতি মায়েদের জন্য বেবি ফিডিং রুম, পথবাতি, শৌচালয় প্রভৃতি।  
করিমপুর-১ বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘সুপর্ণাদেবী নারী-বান্ধব মডেল পঞ্চায়েত বানাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ব্লকের অন্যান্য পঞ্চায়েতও আগামীদিনে এভাবেই কাজ করবেন বলে আশা করছি।’ এদিকে, সুপর্ণাদেবী বলছিলেন, ‘পঞ্চায়েতের সব কাজে জেলাশাসক ও বিডিও সাহেব আমাকে সাহায্য করেছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগে এই পুরস্কার পেয়ে আমি খুব খুশি। অনেক ধন্যবাদ জানাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যিনি আমাদের মতো সাধারণ বধূদের এই জায়গা করে দিয়েছেন। পঞ্চাশ শতাংশ আসন সংরক্ষন করে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন আমাদের। দিদি মহুয়া মৈত্রও আমার অনুপ্রেরণা। তাই এই পুরস্কার শুধু আমার নয় আমাদের রাজ্যের, আমাদের জেলার, আমার করিমপুরের সকলের।’ • দিল্লির বিজ্ঞানভবনে পুরস্কার নিচ্ছেন করিমপুর ১ পঞ্চায়েত প্রধান সুপর্ণা মুখোপাধ্যায়। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ