নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে জগতের সমস্ত সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি জগৎজননী তারা মায়েরও দর্শন পাওয়া সম্ভব। এমন আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে দীক্ষা দিতে তারাপীঠে ডেকেছিল এক তান্ত্রিক। এরপর হোটেলের ঘরে নিয়ে গিয়ে মাদক খাইয়ে সহবাস করা হয় বলে অভিযোগ। এর সঙ্গে চলে দিনের পর দিন প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকি। এই অভিযোগে ভণ্ড তান্ত্রিক তন্ময় ঘোষ ওরফে তারকনাথ কাপালিক অঘোরীকে সোদপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। তার বাড়ি হাওড়ার ডোমজুড়ে। ধৃতকে এদিন বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহারের এক তরুণীর সঙ্গে তন্ময়ের পরিচয় হয়েছিল। তরুণী পেশায় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট। তিনি আধ্যাত্মিক জগৎ নিয়ে জানতে আগ্রহী হয়েছিলেন। তখন এই ভণ্ড তাঁকে দীক্ষা নিতে হবে বলে জানায়। প্রথমে তরুণীকে তারাপীঠের হোটেলে ডেকে পাঠায়। অভিযোগ, তিনি হোটেলে গেলে পানীয়ের সঙ্গে মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে তাঁকে বেহুঁশ করা হয়। এরপর বিয়ের নাটক করে হোটেলে মালাবদল করার পর সহবাস করে। এরপর তরুণীকে নিয়ে সে স্বদেশি মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করে। তান্ত্রিক প্রথমে তাঁকে জানিয়েছিল, তার ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। কিন্তু খড়দহে থাকাকালীন তরুণী জানতে পারেন, তন্ময়ের স্ত্রী ও ১১ বছরের সন্তান রয়েছে। সে এভাবে ফাঁদে ফেলে বহু মহিলাকে ব্ল্যাকমেল করছে। তিনি প্রতিবাদ করলে তন্ময় তাঁকে ব্ল্যাকমেলের পাশাপাশি খুনের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরে তিনি কোচবিহারে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যান। চলতি মাসে ওই তরুণী খড়দহ থানায় তান্ত্রিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, তন্ময় তন্ত্র সাধনার নাম করে আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল ও মানসিকভাবে দুর্বল মহিলাদের টার্গেট করে সম্পর্ক তৈরি করত। এরপর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ও ভিডিয়ো দেখিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করত। বৃহস্পতিবার রাতে তন্ময়কে সোদপুর স্টেশন চত্বর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এভাবে কতজনকে সে প্রতারণা করেছে, কত টাকা হাতিয়েছে, সেইসব তথ্য জোগাড় করছেন তদন্তকারীরা।