সংবাদদাতা, বোলপুর: টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন ব্যারাজ থেকে জল ছাড়ার ফলে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কোপাই নদীর জল বিপদসীমার উপরে বইতে শুরু করে। ফলে শান্তিনিকেতন ও পাড়ুই থানার মধ্যবর্তী সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে থাকে। রাতে বোলপুর ও সিউড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেকেই বিপজ্জনকভাবে পারাপার করার কারণে ওই সেতুর আগে ব্যারিকেড করে দেয় ব্লক প্রশাসন। শুক্রবার সকালে আবার নদীর জলে ডুবল সতীপীঠ কঙ্কালীতলা মন্দির প্রাঙ্গণ। এর ফলে একহাঁটু জমা জল পেরিয়ে পুণ্যার্থীদের পুজো দিতে হয়। ফি বছর এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন কঙ্কালীতলা পঞ্চায়েত। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শান্তিনিকেতন থানার পুলিস সেখানে নজরদারি চালায়। নিম্নচাপের টানা বৃষ্টির কারণে ছোট নদী বলে খ্যাত কোপাইয়ের জল বিপদসীমায় বইতে শুরু করে। তবে, কুলতোড় ব্যারাজ থেকে লাগাতার জল ছাড়ার কারণে নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। এর ফলে গোয়ালপাড়ার সেতু ডুবে যায়। একইভাবে জলমগ্ন হয়ে পড়ে সতীপীঠ কঙ্কালীতলা। আর তাতেই নিত্যপুজোয় বিলম্ব হয়। পুণ্যার্থীরা এক হাঁটু জল পেরিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারেন। মন্দিরের জলমগ্ন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এদিন উপস্থিত হন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ, বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস সহ পঞ্চায়েত সমিতি ও পঞ্চায়েতের সদস্যরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কুলতোড় ব্যারাজ থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় ৮ হাজার ৮৮ কিউসেক ও রাত সাড়ে ১০টায় ৬ হাজার ৯৭৪ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়। এরপর পুনরায় শুক্রবার সকাল ৯টায় ৩৭১২ কিউসেক ও দুপুর ৩টে নাগাদ ১৬০০ কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়। আর তাতেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। দফায় দফায় জল ছাড়ার কারণেই সতীপীঠের মন্দির প্রাঙ্গণ জলে ডুবে গিয়েছে বলে জানান কাজল সাহেব। তিনি বলেন, নতুন করে আর বৃষ্টি হয়নি। তাই পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি হবে আশা করছি। নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় শুক্রবার দুপুরে গোয়ালপাড়ায় চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়েছে।



