সংবাদদাতা, কান্দি: যন্ত্রপাতি আগেই বসে গিয়েছে। এখন শুধু জলের পাইপ লাইনের কাজ চলছে। আর পাইপ লাইনের কাজ শেষ হলেই কান্দি মহকুমা হাসপাতালের ডায়ালিসিস ইউনিট রেডি হয়ে যাবে। বাকি থাকবে উদ্বোধন। সেটাও একমাসের মধ্যে হতে পারে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশা। এটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়াও প্রতিবেশী বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের একটা অংশ উপকৃত হবে।
কান্দি মহকুমা হাসপাতাল ও হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে হাসপাতাল পরিদর্শনে আসে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। সেইসময় তাঁদের কাছে হাসপাতালে ডায়ালসিস ইউনিট তৈরির আবেদন করা হয়। এর পরবর্তীতে কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বিধানসভায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কয়েকমাস আগে স্বাস্থ্যদপ্তর কান্দিতে ডায়ালসিস ইউনিট তৈরির অনুমোদন দেয়। এরপর হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিট তৈরির কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে হাসপাতালের নতুন ভবনে ডায়ালিসিস মেশিন ইনস্টল করা হয়েছে। বাকি রয়েছে শুধু জলের পাইপ লাইনের কাজ। তবে সেটি খুব মন্থর গতিতে চলছে বলে দাবি। যদিও হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, কাজের গতি বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যদপ্তরে জানানো হয়েছে। তবে আশা করা যায়, আগামী একমাসের মধ্যে ডায়ালিসিস ইউনিট পুরো রেডি হয়ে যাবে। এরপর উদ্বোধনের অপেক্ষা।
এদিকে এই ইউনিট চালু হলে শুধু কান্দি মহকুমা এলাকা বলে নয়। বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের বিস্তীর্ণ এলাকার রোগীরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম ও বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ব্লক এলাকার রোগীরা উপকৃত হবেন।
কান্দি মহকুমা এলাকার কিডনি সমস্যার রোগীদের সরকারিভাবে ডায়ালিসিসের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপর ভরসা করতে হয়। এখানে ওই দুই প্রতিবেশী জেলার কিছুটা অংশের রোগীদের এই হাসপাতালের উপর ভরসা করতে হয়।
তাই কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ডায়ালিসিস ইউনিট চালু হলে বৃহত্তর এলাকার রোগীরা উপকৃত হবেন। কান্দি শহরের বাঘডাঙার এক রোগীর পরিজন সুমন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকারিভাবে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালিসিস করা আমাদের পক্ষে বেশ সমস্যার। বাইরে থেকে রোগী নিয়ে লাইন দিয়ে দাঁড়ানো খুব সমস্যা হয়। কান্দিতে এই ইউনিট চালু হলে অনেকের সুবিধা হবে।
কান্দি মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার বলেন, কান্দিতে ডায়ালিসিস ইউনিট একমাসের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি। বিষয়টি নিয়ে মূখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এই ইউনিট তৈরির জন্য কান্দির মানুষের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।