


সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর; কাঁচরাপাড়ায় গান্ধী মোড়ের কাছেই পালবাড়ি। ১৯০৪ সালে পালবাড়ির তৎকালীন কর্ণধার ত্রৈলোক্য পালের হাত ধরেই এই বাড়িতে শুরু হয় দুর্গাপুজো। তবে তার আগে পাল বংশের পুজো হতো বারাসতের কামদেবপুরে। সেখান থেকে এই বাড়িতে এসে পুজো শুরু করেন ত্রৈলোক্যবাবু। পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। মাকে অন্ন ভোগের বদলে দেওয়া হয় শীতল ভোগ। তাতে থাকে লুচি, সুজি, মিষ্টি, ফল ইত্যাদি। বাড়িতেই তৈরি হয় প্রতিমা। এই বনেদি বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, বাড়ির সদস্যরাই মাকে কাঁধে নিয়ে চার কিমি পথ হেঁটে গঙ্গায় নিরঞ্জন করেন। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থেকে বহু মানুষ মাকে দর্শন করেন।
ওই বাড়ির অন্যতম বার্তা দেবব্রত পাল বলেন, আগে কামদেবপুরে আমাদের বংশের পুজো হতো, পরে কাঁচরাপাড়ায় গান্ধী মোড়ের সামনে এই বাড়িতে পুজো শুরু হয়। জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজো হয়। মহালয়ার দিন চক্ষুদান হয় মায়ের। পঞ্চমী থেকে শুরু হয় পুজো।
একইভাবে ভাসান হয় কাঁচরাপাড়ার নন্দীবাড়ির বাড়ির পুজো। ওই বাড়ির সদস্য কৌস্তভ নন্দী জানালেন, ১৯১০ সাল থেকে আমাদের বাড়িতে পুজো শুরু হয়েছে। এক কাঠামোয় পুজো হয়। অন্নভোগ হিসেবে খিচুড়ি দেওয়া হয় না। মাকে শীতল ভোগ দেওয়া হয়। তাতে থাকে লুচি, সুজি, মিষ্টি। ১১৫ বছরের এই পুজো নিষ্ঠার সঙ্গে একই নিয়মে হয়ে আসছে। তবে আমাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বিসর্জন। আমরা কাঁধে করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গঙ্গায় মাকে বিসর্জন দিই। কাঁচরাপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমল অধিকারী জানিয়েছেন, আমার পুরসভা এলাকায় এই দু’টি বাড়ির পুজোর মাহাত্ম্য আছে। শতাধিক বছরের প্রাচীন দু’টি পুজোর বিসর্জন হয় দেখার মতো হয়। রাস্তার দু’ধারে মানুষ দাঁড়িয়ে থেকে মা দুর্গাকে প্রত্যক্ষ করেন।