নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কোন্নগরের পর এবার রেলশহর কাঁচরাপাড়া। বকেয়া চেয়ে রেলকে চিঠি দিল পুরসভা। রেলশহর হিসেবেই পরিচিত। স্থানীয় পুর এলাকার ৭০ শতাংশ জমিই রেলের। তার মধ্যে রেলের ওয়ার্কশপ, স্টেশন, কোয়ার্টার, হাসপাতাল প্রভৃতি রয়েছে। ওইসব এলাকার জঞ্জাল সাফাইসহ সবরকম পরিষেবা দিতে হয় পুরসভাকে। এর জন্য সার্ভিস ট্যাক্স দাবি করেছে পুরসভা। ১৯৮৩-৮৪ সাল থেকে ২০২৪-২৫ সাল পর্যন্ত ১৪ কোটি ৪১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৪১ টাকা সার্ভিস ট্যাক্সের বিল রেলকে ধরিয়েছে কাঁচরাপাড়া পুরসভা। পুর চেয়ারম্যান কমল অধিকারী, সার্ভিস ট্যাক্স চেয়ে গত ২২ জুলাই শিয়ালদহের ডিআরএমকে তিনি চিঠি পাঠান। তার প্রতিলিপি দেওয়া হয় পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে। চিঠিতে পুরসভার আর্থিক সমস্যার কথাও উল্লেখ ছিল।
তার জবাবে গত ১৬ আগস্ট রেলের পক্ষ থেকে পুর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে একটি ফ্রেশ বিল চাওয়া হয়। ওইসঙ্গে উল্লেখ করতে বলা হয় ওয়ার্ড ও প্রেমিসেস নম্বর এবং রাস্তার নাম। জবাবে গত ৪ অক্টোবর রেলকে চিঠি দিয়ে পুর চেয়ারম্যান জানান, রেলের যেসব সম্পত্তির জন্য সার্ভিস ট্যাক্স চাওয়া হয়েছে তা পুর এলাকারই অন্তর্গত। যেমন কাঁচরাপাড়া রেলওয়ে ওয়ার্কশপ (লোকো এবং ক্যারেজ), হাসপাতাল, কোয়ার্টার, স্টেডিয়াম, ক্ষুদিরাম বোস ইনস্টিটিউট, কাজি নজরুল ইনস্টিটিউট, রেল ইনস্টিটিউট প্রভৃতি। এগুলি পুরসভার ১, ২, ৩, ২২ ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এগুলির জন্য সার্ভিস চার্জ যাওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি সম্পত্তি থেকে সার্ভিস চার্জ দাবির জন্য সুপ্রিম কোর্টের এক রায়েরও উল্লেখ করা হয়। ২০০৯ সালে রাজকোট মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের তরফে দায়ের করা মামলায় শীর্ষ আদালত ওই রায় দেয়।
এই ব্যাপারে পুর চেয়ারম্যান কমল অধিকারী বলেন, আমাদের পুরসভার জায়গা মাত্র ৩০ শতাংশ। বাকিটা রেলের অধীনে। ফলে পুরসভার সম্পত্তি কর আদায়ের পরিমাণ খুবই কম। এজন্য পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা আমরা পাই না। তাই রেলের কাছে সার্ভিস ট্যাক্স চাওয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে অল্প কিছু টাকা আমরা একবারই পেয়েছিলাম। তারপরে আর কোনও টাকা পাইনি। ওরা যে দিতে পারবে না, তাও আমাদের জানিয়ে দিয়েছে। রেলের পড়ে থাকা জায়গা লিজে নিতে চেয়েছে পুরসভা। সেখানে আমরা উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারি। তা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি রেল।
চিঠি, পাল্টা চিঠি হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কানাকড়িও পায়নি পুরসভা। রেলের কাছে পুরসভার প্রাপ্য জমেছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ দপ্তরের তরফে দীপ্তিময় দত্ত বলেন, এগুলো রেলের দীর্ঘদিনের স্থাপনা। স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধেই তৈরি হয়েছে। পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব তাদের। পাসেঞ্জাররা সেখান থেকেই আসা-যাওয়া করেন। রেলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন সার্ভিস ট্যাক্স দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন গাইডলাইন নেই।