Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কামারপুকুর: ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এঁকেছিলেন দেবীর চক্ষু, লাহাবাড়িতে আজও বসে যাত্রার আসর

কামারপুকুরের লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় দেবীর চক্ষুদান করেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। এই পরিবারের প্রাচীন দুর্গাদালানে এখনও কয়েকশো বছরের পুরনো নিয়মে দেবীর পুজো হয়।

কামারপুকুর: ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব এঁকেছিলেন দেবীর চক্ষু, লাহাবাড়িতে আজও বসে যাত্রার আসর
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কামারপুকুর: কামারপুকুরের লাহাবাড়ির দুর্গাপুজোয় দেবীর চক্ষুদান করেছিলেন স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। এই পরিবারের প্রাচীন দুর্গাদালানে এখনও কয়েকশো বছরের পুরনো নিয়মে দেবীর পুজো হয়। ঐতিহ্য মেনে এখনও দুর্গাপুজো ঘিরে যাত্রাপালার আসর বসে। এক-দু’দিন নয়, টানা সাত-আটদিন ধরে নানা পালা মঞ্চস্থ হয়। এবারও পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

Advertisement

প্রতিপদ তিথি থেকেই লাহা বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যায়। এখন সেখানে দেবীর প্রতিমায় শুধু রঙের প্রলেপ দেওয়া বাকি। পরিবারের সদস্যরা জানালেন, কয়েকশো বছর আগে তাঁদের পূর্বপুরুষ ধর্মদাস লাহা স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীর পুজো শুরু করেছিলেন। তখন থেকে একই নিয়মে পুজো হয়ে আসছে। কামারপুকুর পঞ্চায়েত অফিসের কাছে রাসতলায় লাহাবাড়ির প্রাচীন দুর্গাদালান রয়েছে। সেখানেই সাবেকি প্রতিমায় পুজো হয়।
পরিবারের তরফে শম্ভুনাথ লাহা, নিরঞ্জন লাহা বলেন, শুরুর দিকে পুজো উপলক্ষ্যে তরজা, গান প্রভৃতি হতো। এখন যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হয়। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবও যাত্রাপালা দেখতে ভালোবাসতেন। মহালয়ার পরে প্রতিপদে লাহাপুকুর থেকে ঘট ওঠে। তারপরই শুরু হয় চণ্ডী আরাধনা। ষষ্ঠী পর্যন্ত নিয়মিত চণ্ডীপাঠ করা হয়। এবছর একাদশীতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিজয়া সম্মিলনীও হবে।
লাহাবাড়ির অপর সদস্য বীরেশ লাহা বলেন, একসময় আমাদের মৃৎশিল্পী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব আমাদের প্রতিমার চোখ এঁকেছিলেন। তখন তাঁর শৈশবকাল। আমরা গোস্বামী মতে পুজো করি।
শুভ্রপ্রকাশ লাহা, কৃষ্ণেন্দু লাহা বলেন, এই প্রাচীন পুজো দেখতে কামারপুকুর সহ আশপাশের এলাকার মানুষও আসেন। আমাদের পরিবারের বহু সদস্য কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। তাঁরাও পুজোর সময় বাড়িতে আসেন। পুজোর ক’দিন ছোটদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
পরিবারের প্রবীণ সদস্যা চাঁপা লাহা বলেন, ষষ্ঠী থেকে পরিবারের প্রত্যেকেই নিরামিষ খাবার খাই। নবমীতে মাছ খাওয়া হয়। দেবীর ইচ্ছায় আমাদের পুজোর জৌলুস এখনও একইরকম রয়েছে। নবমী তিথিতে এখানে কুমারীপুজোর রীতি রয়েছে। লাহা পুকুরেই প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মস্থান কামারপুকুর। সেখানে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ভক্তদের ঢল নামে। লাহাবাড়ির দুর্গামণ্ডপের সামনেই রয়েছে টিনের ছাউনি দেওয়া ‘ঠাকুরের পাঠশালা’। সেটি শ্রীরামকৃষ্ণদেবের শৈশবের নানা স্মৃতিবিজড়িত জায়গা। তাই বছরভর বহু ভক্ত তা দেখতে আসেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ