Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রায় ২৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত কামারহাটি পুরসভার

বয়স ষাটের বেশি, কেউ আবার কর্মক্ষম নন, অথচ খাতায় কলমে কাজ করছেন পুরসভায়। এছাড়া কিছু কর্মী রয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত হাজিরা দেন না।

প্রায় ২৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত কামারহাটি পুরসভার
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বয়স ষাটের বেশি, কেউ আবার কর্মক্ষম নন, অথচ খাতায় কলমে কাজ করছেন পুরসভায়। এছাড়া কিছু কর্মী রয়েছেন, যাঁরা নিয়মিত হাজিরা দেন না। ঘরে বসে মাইনে তোলেন। এমন অস্থায়ী কর্মীদের চিহ্নিত করে চাকরি থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কামারহাটি পুরসভা। পুরসভার আর্থিক দায় কমানো ও পরিষেবা আরও গতিশীল করতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, নিষ্ক্রিয় অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমপক্ষে ২৫০ জন। মাস মাইনে ছ’হাজার টাকা হলে এঁদের জন্য ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। পুরসভার ওই টাকা বাঁচবে। তা খরচ করা যাবে পরিষেবার কাজে।

Advertisement

কামারহাটি পুরসভার মোট ওয়ার্ড ৩৫টি। শহরে দৈনন্দিন সাফাই, স্বাস্থ্য বিভাগ সহ নানা দপ্তরে প্রায় ১৩০০ অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। তাঁদের কেউ দৈনিক ৩০০ টাকা, কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২০০ টাকা মজুরি পান। এছাড়া পুজোয় বোনাস, ইপিএফ সহ নানা খাতে আর্থিক সহায়তা দিতে হয়। সম্প্রতি সমস্ত অস্থায়ী কর্মীকে ইএসআই-এর সুবিধে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র এই খাতে পুরসভার মাসিক ব্যয় হবে প্রায় ১ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা। ফলে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন সহ অন্যান্য খাতে পুরসভার নিজস্ব তহবিলের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এই পরিস্থিতিতে আগে থেকে সতর্ক হতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। শহরতলির অন্যান্য পুরসভার তুলনায় কামারহাটির আর্থিক হাল ভালো হলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে আগেভাগে সতর্ক হতে চাইছে পুর কর্তৃপক্ষ। সেকারণে, ৩৫টি ওয়ার্ড ও পুরসভায় কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের মূল্যায়ন শুরু করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, ৬৫ বছরের কর্মীও খাতায় কলমে পুরসভায় কাজ করছেন। তাঁদের কর্মক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছে। আবার অনেক যুবক সঠিকভাবে কাজ করছেন না। সব মিলিয়ে সঠিকভাবে কাজ না করা অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা ২৫০ জনের বেশি। সম্প্রতি পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়, এই ধরনের অস্থায়ী কর্মীদের চিহ্নিত করে তাঁদের চাকরি থেকে বসানো হবে। পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা বলেন, আমরা চাই জনগণের করের টাকার সঠিক ব্যবহার হোক ও শহরবাসী সঠিক পরিষেবা পাক। যেসব অস্থায়ী কর্মী মাসিক বেতন নিলেও সঠিকভাবে কাজ করছেন না তাঁদের চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় ষাটোর্ধ্ব কর্মীদের পাশাপাশি কম বয়সিরাও রয়েছেন। যাঁরা ঠিকমতো কাজ করছেন না, বা কাজ করতে পারছেন না তাঁদের কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ