নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে ২০২৪ সালে চমক দিতে চেয়েছিল রানাঘাটের অভিযান সঙ্ঘ। সেই মতো ১১২ ফুটের দুর্গাপ্রতিমাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, প্রশাসনের অনুমতি মেলায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল। তবে স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি পুজো উদ্যোক্তারা। তা এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মিলেছে প্রশাসনিক অনুমতি। তৈরি হচ্ছে বড় মূর্তি। নতুন উদ্যমে পুজোর উদ্যোগ নিয়েছে রানাঘাট-২ ব্লকের কামালপুর অভিযান সঙ্ঘ।
কলকাতা নয়, সবচেয়ে বড় দুর্গামূর্তি তৈরির স্বপ্ন দেখেছিল নদীয়া জেলার রানাঘাট মহকুমা শহর থেকেও প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম। ছিল না কোনও স্পন্সরশিপ বা বিজ্ঞাপন। গ্রামের আট থেকে ৮০ ঝাঁপিয়েছিলেন এই রেকর্ড গড়তে। বেশ কয়েক বিঘা ফুলচাষের জমি খালি করে পেল্লাই সাইজের দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয়। কিন্তু, আইনি জট ও নিরাপত্তার কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। গতবছর সেই পুজো না হলেও এবার নতুন উদ্যমে পুজোর উদ্যোগ নিয়েছে অভিযান সঙ্ঘ।
এবছর রীতিমতো ইঞ্জিনিয়ারিং প্ল্যান করে সিমেন্ট-কংক্রিটের বেস তৈরি করে তার উপর মাথা তুলবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্গা। তার উচ্চতা কত হতে চলেছে উদ্যোক্তারা এখনই স্পষ্ট না করলেও গতবারের মতোই অর্থাৎ ১১২ ফুট বলে সূত্রের খবর। সেই লক্ষ্যেই এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত প্রতিমা গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন অপূর্ব-নীতিশ-বাপি-প্রশান্তরা। ফাইবারের মূর্তির উপর চলছে শিল্পীর তুলির আঁচড়। বেশ আন্দাজ করা যাচ্ছে এবার নদীয়া জেলা তো বটেই, শহরমুখী ভিড় ছুটবে কামালপুরের দিকেই।
থমকে যাওয়া পুজো এবার যাতে বাস্তবায়িত হয়, তার জন্য এগিয়ে এসেছেন রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক তথা অন্যতম পৃষ্ঠপোষক সমীর পোদ্দার থেকে নদীয়ার পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ও। প্রশাসনের কাছ থেকে পুজোর অনুমতি আদায় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছেন তাঁরাই। অভিযান সঙ্ঘের তরফে মূল উদ্যোক্তা সুজয় বিশ্বাস বলেন, আমাদের স্বপ্ন ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা তৈরির। এবার আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছি। যেহেতু গত বছর আমাদের অনেকটাই কাজ এগিয়ে ছিল, তাই এবার পরিশ্রম খানিকটা কম। জোর কদমে কাজ এগচ্ছে। আমরা চাই দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ এসে দেখুক বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা। এটা আমরা বলতে পারি, এমন দুর্গাপ্রতিমা বাঙালি আগে দেখেনি।
একবছরে কামালপুর তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে ‘বড় দুর্গা আর্ট ভিলেজ’। গ্রামের শিল্পীরাই এখন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বড় কালী, জগদ্ধাত্রী ও সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করেন। সেই জন্য কামালপুরের শিল্পীদের রাজ্যজুড়ে জনপ্রিয় হওয়ার সুবাদে কর্মসংস্থান হয়েছে গ্রামের বহু মানুষের। অভিযান সঙ্ঘের সভাপতি শ্রীবাস বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের সবরকম সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি। নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই আমাদের এই ভাবনা করা হয়েছিল। তবে শেষমেশ আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।