নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গড়িয়াতেই কামাখ্যা দর্শন। এ বছর গড়িয়া আদি মহাশ্মশানের কালীপুজোতে অসমের কামাখ্যা মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। ১২১ বছর প্রাচীন শ্মশানকালী ঘিরে স্থানীয় মানুষের আবেগ রয়েছে। গত কয়েক বছর হল, আদি পুজোর সঙ্গে মণ্ডপ তৈরি করে কালীপুজো শুরু হয়েছে। এই পুজো অল্পদিনের মধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। গড়িয়ার এই আদি মহাশ্মশানে রয়েছে জোড়া মন্দির। তা অতি প্রাচীন। বর্তমানে তা হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
কথিত আছে, এককালে আদি গঙ্গা এই শ্মশানের পাশ দিয়েই বয়ে যেত। গঙ্গা দিয়ে বাণিজ্যতরি পৌঁছত সমুদ্রে। শোনা যায়, মঙ্গলকাব্যর নায়ক ধনপতি সওদাগরের পুত্র শ্রীমন্ত সওদাগর আদিগঙ্গা দিয়ে যাওয়ার সময় এই জোড়া শিবমন্দির স্থাপন করেছিলেন। শ্মশানের কালী মন্দিরে মায়ের পুজো হয়েই থাকে। একই সঙ্গে মণ্ডপেও পুজো হয়। অমাবস্যা পড়লেই শ্মশানের কাঠের চুল্লির স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা মোমবাতি জ্বালান। সে এক অপরূপ দৃশ্য। ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাসের উদ্যোগে গত কয়েক বছরে জনপ্রিয় হয়েছে এই পুজো। তিনি বলেন, ‘কালীপুজোর সময় গোটা শ্মশান চত্বর উত্সবমুখর হয়ে ওঠে। পুজো উপলক্ষ্যে দু’দিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। ২৪ তারিখে প্রতিমা বিসর্জন। আমাদের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস শ্মশানের চেহারা বদলে দিয়েছেন।
রবিবার টালিগঞ্জের বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পুজো উদ্বোধন করেন। এখানে কাঠের চুল্লি, ইলেকট্রিক চুল্লি ও শিশুদের কবরস্থান, সবই আছে।’ গত বছর এই পুজো দেখতে লক্ষাধিক মানুষ ভিড় করেছিল। এ বছর কামাখ্যা মন্দির ঘিরেও উত্সাহ তুঙ্গে। মণ্ডপসজ্জায় রয়েছেন শিল্পী নারায়ণ নন্দী এবং প্রতিমা গড়েছেন শ্রীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র