ফ্লোরিডা: দীর্ঘ অপেক্ষা আর উৎকণ্ঠার অবসান। বুধবার শুভাংশু শুক্লাদের নিয়ে মহাকাশে পাড়ি দিল স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’। ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর ১২টা ১ মিনিট (ভারতীয় সময়)। পূর্ব নির্ধারিত নির্ঘণ্ট অনুযায়ী এদিন ঠিক এই সময়ে আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ফ্যালকন-৯ রকেটের সফল উৎক্ষেপণ হয়। নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে একথা ঘোষণার পরে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। ছেলের এই নজিরে খুশি শুভাংশুর বাবা-মা। লখনউতে বসেই টিভির স্ক্রিনে নজর রাখেন তাঁরা।
মহাকাশ যাত্রাপথে বার্তা পাঠিয়েছেন শুভাংশু। এক অডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘নমস্কার, আমার প্রিয় দেশবাসী! অসাধারণ এক যাত্রা! ৪১ বছর পর আমরা আবারও মহাকাশে এলাম। আমরা প্রতি সেকেন্ডে ৭.৫ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে বের হচ্ছি। আমার কাঁধে তিরঙ্গা পতাকা রয়েছে। সেটাই আমাকে বলে দিচ্ছে আমি আপনাদের সকলের সঙ্গে আছি।’ শুভাংশু আরও বলেন, ‘আমার এই যাত্রা শুধু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রা নয়, বরং ভারতের মহাকাশ গবেষণার নতুন অধ্যায়। আমি চাই আপনারা সকলেই এই যাত্রার অংশীদার হোন।...জয় হিন্দ! জয় ভারত!’
অক্সিয়ম-৪ অভিযানে পাইলটের দায়িত্বে রয়েছেন শুভাংশু। সঙ্গে আরও তিন মহাকাশচারী— পেগি উইটসন, টিবর কাপু ও স্লাওজ উজনানস্কি। রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে মহাকাশযাত্রা করছেন শুভাংশু। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পেস সেন্টারে ডকিং করবে তাঁদের মহাকাশযান। এর পরে ১৪ দিন সেখানে কাটাবেন তাঁরা। অন্তত ৬০টি পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন।
এর আগে সাতবার পিছিয়ে গিয়েছে অক্সিয়ম-৪ অভিযান। এদিন সকালেও ফ্যালকন-৯ রকেটে সামান্য সমস্যার খবর সামনে আসে। ফের কি শেষমুহূর্তে বাতিল হয়ে যাবে অভিযান? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটি মিটে গিয়েছে। ওড়ার জন্য ফ্যালকন-৯ প্রস্তুত বলে জানিয়ে দেয় স্পেসএক্স। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে দেশবাসী। সেইসঙ্গে শুরু হয় কাউন্টডাউন। সমস্ত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্ধারিত সময়েই মহাকাশের উদ্দেশে পাড়ি দেয় ড্রাগন।