Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জামিয়া পাম, পুত্রাঞ্জিবার পাশে আফ্রিকার বাওবাব, বিরল বৃক্ষে সেজেছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভারসিটি পার্ক

দেশ-বিদেশের বিরল প্রজাতির গাছের সমারোহ। সেই গাছ দিয়েই সেজে উঠেছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভারসিটি পার্ক। যা রাজ্যে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে উঠেছে।

জামিয়া পাম, পুত্রাঞ্জিবার পাশে আফ্রিকার বাওবাব, বিরল বৃক্ষে সেজেছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভারসিটি পার্ক
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কল্যাণী: দেশ-বিদেশের বিরল প্রজাতির গাছের সমারোহ। সেই গাছ দিয়েই সেজে উঠেছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভারসিটি পার্ক। যা রাজ্যে ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে উঠেছে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সামনে তিন হেক্টর জমিতে রয়েছে এই বায়োডাইভারসিটি পার্ক। এখানে নানা বিরল প্রজাতির ৮০০ গাছ বসানো হয়েছে। এই পার্কে লাগানো হয়েছে ২৮টি হিজল গাছও। হিজল গাছ বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে। এই পার্কের দেখভালের দায়িত্বে বিভাগের অধ্যাপিকা নীরা সেন সরকার।

Advertisement

২০১৬ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োডাইভারসিটি পার্ক তৈরি হয়। বর্তমানে এই পার্কের বয়স প্রায় দশ বছর। এই পার্ক কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে। জানা-অজানা গাছপালায় ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পার্ক নজর কেড়েছে বায়োডাইভারসিটি বোর্ডের। পার্কে রয়েছে বিভিন্ন ইউনিট। কোনও ইউনিটে বনৌষধির গুল্ম চোখে পড়ে। আবার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়, এমন বড় গাছও রয়েছে কোনও ইউনিটে। এছাড়াও পার্কে রয়েছে প্রজাপতির বাগান। পার্কের কোথাও দেখা যায় রান্নায় ব্যবহৃত মশলাজাতীয় গাছের বাগান। এই পার্কেই রয়েছে ডাই গার্ডেন। এখানে প্রাকৃতিক রং তৈরির গাছপালা রয়েছে। লিপস্টিক, মেহেন্দি ইত্যাদি তৈরি করা হয়, এমন গাছ রয়েছে এখানে। এছাড়াও পলাশ, ক্যাসিয়ার, পুত্রঞ্জিবা, জামিয়া পাম, আফ্রিকার বাওবাবের মতো গাছ দেখা যায়। এছাড়াও বাদাম, নাট ফল, পানিফলের গাছ রয়েছে বায়োডাইভারসিটি পার্কে। জানা-অজানা নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা রয়েছে এই পার্কে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পার্কে আট রকমের তুলসী গাছ এবং তিন রকমের বাসক গাছও বসানো হয়েছে। এছাড়াও হারিয়ে যেতে বসা বিভিন্ন দেশীয় ফল যেমন কামরাঙা, গোলাপজাম, করমচার মতো বহু গাছ রয়েছে এই বাগানে। এই পার্কেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আফ্রিকান গাছ। দেখা যায় সাত রকমের বাঁশ গাছও। পার্কের ভিতর বট বাগানে দেখা যায় ছয় ধরনের বটগাছ।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভারসিটি পার্কের এই বৈচিত্র্য বায়োডাইভারসিটি বোর্ডের প্রশংসা কুড়িয়েছে। যার জন্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়কে বায়োডাইভারসিটি ক্যাম্পাস হিসাবে তৈরি করার ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। যা রাজ্যের কাছে মডেল হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োডাইভারসিটি পার্ক। এখানে শিক্ষামূলক ভ্রমণে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়ারা আসে। উপাচার্য অধ্যাপক কল্লোল পাল বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ। জানা-অজানা গাছকে চিনতে এই পার্ক সাহায্য করবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ