সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের খড়্গপুর শহর সভানেত্রীর পদ ছাড়লেন কল্যাণী ঘোষ। তবে খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারপার্সন পদে রয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে দলের রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন। তিনি বলেন, পুরসভার কাজ করে সংগঠনের কাজ সামলাতে পারছিলাম না। কাজ যখন করতে পারছি না, তখন পদে থাকা উচিত নয়। তাই পদত্যাগ করলাম। দল যাঁকে দায়িত্ব দেবে তাঁকে সবরকম সহযোগিতা করব। তবে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কল্যাণী পদত্যাগ করার আগেই তাঁকে শহর সভানেত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত গত ২১ মার্চ খড়্গপুর শহরে একটি রাস্তার উদ্বোধন করতে এসে স্থানীয় মহিলাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন দিলীপবাবু। সেই সময়ে তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্যে কুকথা বলেন। গলা টিপে দেওয়ার হুমকি দেন। মহিলাদের গায়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চলিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। তাঁর এই আচরণ নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায়। কিন্তু খড়্গপুর শহর মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসকে এর বিরুদ্ধে সেভাবে সরব হতে দেখা যায়নি। সেরকম সক্রিয় ভুমিকা নেননি মহিলা তৃণমূলের শহর সভানেত্রী। বুধবার মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। খড়্গপুর শহর মহিলা তৃণমূল কোনও ভূমিকা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্য সভানেত্রী তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, রাজ্য সম্পাদক হেমা চৌবে ও জেলা সভানেত্রী মামনি মান্ডিকেও রাজ্য সভানেত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বৃহস্পতিবার সকালে কল্যাণী ঘোষ পদত্যাগ করার পর রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পদত্যাগ পরে করেছেন ঠিক আছে, তবে তার আগেই সরিয়ে দিয়েছি আমি। বুধবার দুপুরেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। দিলীপবাবু মেয়েদের নিয়ে নোংরা কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে শহর সভানেত্রী নিজে থেকে কোনও পদক্ষেপ করেননি। আমি ফোন করেছিলাম, ফোন তোলেননি। উনি ওখানে চেয়াম্যান আছেন। হয়তো কাজে অসুবিধা হচ্ছে। তাই তাঁকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাজটা ভালো করে করুন। পদত্যাগ করেছেন ভালো করেছেন।
দিলীপ ঘোষ মহিলাদের কুকথা বলার পর বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু প্রতিবাদ কর্মসূচি অবশ্য হয়েছিল। কিন্তু তা শহরে প্রভাব ফেলতে পারেনি। সেই দিন মহিলারা ওই এলাকায় একটি ধিক্কার মিছিল করেন। প্রতিবাদে সরব হতে দেখা যায় প্রক্তন বিধায়ক তথা কাউন্সিলার প্রদীপ সরকারকে। পরের দিন দিলীপ ঘোষের বাংলোর সামনে হাত গোনা কয়েকজন কাউন্সিলার ও কর্মীকে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান জেলা সহ সভাপতি দেবাশিস চৌধুরী। কিন্তু গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে সবাই মিলে কোনও আন্দোলন সংগঠিত করতে পারেনি। আন্দোলনে নামেনি মহিলা তৃণমূলও।