Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কল্যাণী: এসআইআরে বিপুল নাম বাদ, কল্যাণী পুনরুদ্ধারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল শিবির

মদনপুর স্টেশন থেকে বাইরে পা রাখলেই সুবিশাল পাইকারি সবজি বাজার। ভোর থেকে জমজমাট এই এলাকা দুপুরে শুনশান। অধিকাংশ কৃষক ফসল বিক্রি করে ফিরে গিয়েছেন।

কল্যাণী: এসআইআরে বিপুল নাম বাদ, কল্যাণী পুনরুদ্ধারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল শিবির
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০৪
Prefer us on Google

বীরেশ্বর বেরা, কল্যাণী: মদনপুর স্টেশন থেকে বাইরে পা রাখলেই সুবিশাল পাইকারি সবজি বাজার। ভোর থেকে জমজমাট এই এলাকা দুপুরে শুনশান। অধিকাংশ কৃষক ফসল বিক্রি করে ফিরে গিয়েছেন। বাজারের ভিতরে পাইস হোটেলে দুপুরের খাওয়া সারছেন কয়েকজন। ধীরগতিতে ফ্যান চলছে। টেবিলে চলছে ভোট-চর্চা। খাওয়ার ফাঁকে কাঁধের গামছায় গলার ঘাম মুছে আটিলিয়া গ্রামের চাষি বলরাম দাস বললেন, ‘এবার পালটানো দরকার!’ তবে কি কল্যাণী বিধানসভায় এবারও বিজেপি? ঈষৎ কৌতুক মিশিয়ে বলরাম বললেন, ‘এখানে পালটানো মানে বিজেপি নয় দাদা! কল্যাণীতে তো বিজেপির বিধায়কই আছেন। কিন্তু তাঁকে তো গত পাঁচ বছরে দেখতেই পেলাম না। মাঝেমধ্যে খবরে দেখতে পাই অবশ্য। আমাদের এলাকায় একদিনও দেখিনি। গ্রামের দিকে রাস্তাঘাট দেখুন। বুঝবেন, কাজ তেমন কিছু হয়নি।’

Advertisement

ব্যক্তি বলরাম দাসের দাবি একটা গোটা বিধানসভা এলাকার সার্বিক চিত্র নাও হতে পারে। তবে একটা আভাস পাওয়া যায় বই কী! মদনপুর লাগোয়া শিমুরালি গ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারপাড়া, গৌরাঙ্গপাড়া, আটিলিয়ার মতো কয়েকটি গ্রামে ঘুরে দেখা গেল, বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক অম্বিকা রায়ের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে আমজনতার মধ্যে। এই অবস্থায় তফসিলি জাতি সংরক্ষিত কল্যাণী কেন্দ্র পুনরুদ্ধারে তৃণমূল প্রার্থী করেছে চিকিৎসক অতীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে। প্রচারে স্থানীয় উন্নয়নেই জোর দিচ্ছেন জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী। চিকিৎসা সূত্রে বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিচিত মুখ তিনি। প্রচারে গিয়ে ‘বিধায়ক স্বাস্থ্যকেন্দ্র’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যেখানে বিনামূল্যে  চিকিৎসা পরিষেবা পাবে সাধারণ মানুষ। সঙ্গে আছে এসআইআরে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার ক্ষোভ। কল্যাণী মহকুমার তিন কেন্দ্রের (হরিণঘাটা, চাকদহ ও কল্যাণী) মধ্যে এখানেই সর্বাধিক নাম বাদ গিয়েছে। ৩৬ হাজার ২৭০ জনের। মানুষের এই ভোগান্তি ও ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হবে বলে আশাবাদী তৃণমূল প্রার্থী। অতীন্দ্রবাবু বলেন, ‘অপরিকল্পিত এসআইআরের নামে যেভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করেছে বিজেপি, এই ভোটে মানুষ তার জবাব দেবে।’
কল্যাণী ও গয়েশপুর পুরসভা এবং সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই বিধানসভা কেন্দ্র। জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী বলছেন, ‘এক-একটি এলাকার জন্য আলাদা আলাদা শর্ট টার্ম ও লং টার্ম পরিকল্পনা আছে। সেই সঙ্গে কল্যাণীর স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন, শিল্প এনে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।’ এই কেন্দ্রে এবার প্রার্থী বদল করেছে বিজেপি। বিদায়ী বিধায়ককে টিকিট দেয়নি পদ্ম শিবির। প্রার্থীর নাম ঘোষণাতেও তৃণমূল বা বামেদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল বিজেপি। পদ্ম প্রতীকে এখানে দাঁড়িয়েছেন অনুপম বিশ্বাস। তিনি বলছেন, ‘এখানে বিজেপির বিধায়ক থাকলে কী হবে, বাদবাকি প্রশাসন পুরোটাই তৃণমূলের দখলে। আমাদের কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীর সরকারের প্রকল্পও বাস্তবায়িত করতে দেওয়া হয়নি।’ এসআইআরে নাম বাদ নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের বিষয়।’ অনুপমবাবুর দাবি, তাঁর জয় ২০০ শতাংশ নিশ্চিত। তবে এবার কল্যাণীতে লড়াই দ্বিমুখী নয়, ত্রিমুখী। চাঁদুড়িয়ার বাসিন্দা শ্যামল বিশ্বাস, রীতা দাস, বিশ্বজিৎ মণ্ডলরা বলছিলেন, ‘সিপিএমও ভালো প্রচার করছে।’ এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী করেছে তরুণ ‘রেড ভলান্টিয়ার’ সবুজ দাসকে। প্রচারে এলাকা চষে ফেলছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এবার তৃণমূল জিতবে না। আর বিজেপি পারবে না। কল্যাণীর সুদিন ফেরাতে মানুষ আবার বামেদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।’ প্রচারে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে বলছেন গান্ধী হাসপাতাল ও জেএনএম হাসপাতালের হাল ফেরানোর কথা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতা থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে ঘাঁটি গেড়েছিল মার্কিন সেনা। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের নামে দিনে দিনে সেই জায়গা পরিচিত হয়ে ওঠে ‘রুজভেল্ট নগর’ নামে। যুদ্ধ শেষ হয়। ব্রিটিশদের হটিয়ে স্বাধীনতা পায় ভারতবর্ষ। তার কিছুদিন পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন ডাঃ বিধানচচন্দ্র রায়। গোড়াপত্তন হয় পরিকল্পিত ‘সবুজ শহর’ কল্যাণীর। দিনে দিনে সেই শহর হয়ে ওঠে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প পরিকাঠামোয় সমৃদ্ধ এক সাজানো গোছানো শহর। ডিলিমিটেশনের পর ২০১১ সালে এই বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয়। ২০১১ ও ২০১৬ সালে এখানে জয়ী হয় তৃণমূল। ২০২১-এর বিধানসভায় জেতে বিজেপি। তবে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে বিজেপির অম্বিকাবাবুর জয়ের ব্যবধান ছিল দু’হাজারের সামান্য বেশি ভোট। এই অবস্থায় যুযুধান তিন পক্ষই জয় নিশ্চিত বলে দাবি করছে। মানুষ অপেক্ষা করছে, ২৯ তারিখ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য। ফল মিলবে কয়েকদিন পর, ৪ মে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ