Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্ম শংসাপত্র কাণ্ডে এবার নাম জড়িয়ে গেল কল্যাণী পুরসভারও!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালির পর এবার নদীয়ার কল্যাণী।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্ম শংসাপত্র কাণ্ডে এবার নাম জড়িয়ে গেল কল্যাণী পুরসভারও!
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালির পর এবার নদীয়ার কল্যাণী। ভুয়ো নথি জমা করে বাংলাদেশির ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়ার ঘটনায় এবার নজরে কল্যাণী পুরসভা। এখান থেকে জন্মের শংসাপত্র করেছিল বাংলদেশের বাসিন্দা বিপ্লব হালদার। সেই নথির ভিত্তিতে তৈরি হয় ভারতীয় পাসপোর্ট। এই তথ্য আসার পরই গুজরাত পুলিসের তরফে বিষয়টি রাজ্য পুলিসকে জানানো হয়েছে বলে খবর। কল্যাণী থেকে ইস্যু হওয়া সার্টিফিকেট কে তৈরি করল এবং পুরসভার কোনও নথি-সিলমোহর নকল করে সেটি বানানোও হয়েছিল কি না, তার তদন্তও শুরু হয়েছে বলে খবর।

Advertisement

মে মাসের শেষ সপ্তাহে আমেদাবাদ বিমানবন্দরে সন্দেহের বশে একজন আটক করা হয়। তার নথিপত্র পরীক্ষা করে সন্দেহ হওয়ায় বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় পুলিসকে। গুজরাতের সিকিউরিটি কন্ট্রোলের অফিসাররা সেই নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, সবই ভুয়ো। যাবতীয় নথি পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। আধারের তরফে জানানো হয়, কার্ডে যে নম্বর রয়েছে, সেই নম্বর আরও একজনের আধার কার্ডে রয়েছে। প্যান ও ভোটার কার্ডের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এরপরই পুলিস বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে। কিভাবে সে ভারতীয় নথি তৈরি করলে জানতে জেরা শুরু হয়। পুলিসের জেরায় বিপ্লব জানায়, আসলে সে বাংলাদেশি।  সে. দেশের জন্মের সার্টিফিকেট দেখায়। তদন্তে জানা যায়, তার এক আত্মীয় থাকে গুপ্তিপাড়ায়। তারাও বে আইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়েছে। এখানে এসে বসবাস করছে। বাবা-মা’র সঙ্গে এখানে আসার পর তারা সবাই গুপ্তিপাড়ায় আশ্রয় নেয়। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় ‘ছাপন’ নামে স্থানীয় এক দালালের। ওই দালাল জানায়, অর্থের বিনিময়ে সব ভারতীয় নথি হয়ে যাবে। সেইমত ওই দালাল আদালতে একটি হলফনামা জমা দিয়ে জানায়, বিপ্লব ভারতীয়। ওই একই হলফনামা জমা দেয় কল্যাণী পুরসভাতে।  তার ভিত্তিতে ওই পুরসভা থেকে বিপ্লবের জন্মের সার্টিফিকেট তৈরি হয়। এরজন্য দালাল বিপ্লবের থেকে  ৩০ হাজার টাকা নেয়। ওই সার্টিফিকেট দেখিয়ে এরপর ভোটার ও আধার বানানো হয়। বিপ্লব তদন্তকারীদের জানিয়েছে, এরপর পাসপোর্ট তৈরির জন্য সেখানকার এক দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওই দালাল তাকে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়। গুপ্তিপাড়ার একটি পিএসপিও থেকে পাসপোর্টের আবেদন করা হয়েছিল। সেখানে তার আত্মীয়ের ঠিকানা দেওয়া ছিল। যদিও দালাল পোস্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তাকে দিয়ে যায়। এরপরই বিষয়টি  রাজ্য পুলিসকে জানায় গুজরাতের অফিসাররা। তার ভিত্তিতে ওই দালালদের খোঁজা চলছে। একইসঙ্গে জানার চেষ্টা হচ্ছে, ওই দালাল পুরসভার কাকে কাকে ম্যানেজ করে জন্মের ভুয়ো সার্টিফিকেট তৈরি করিয়েছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ