Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টাকার বিনিময়ে কল্যাণী এইমসের টোকেন বিক্রি!

বিজেপি বিধায়কের সুপারিশে গিয়েও মিলছে না চিকিৎসা। উল্টে, রোগীদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই সব রোগীদের জন্য বরাদ্দ কুপন নাকি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে একাংশ অসাধু নিরাপত্তারক্ষীদের চক্রের বদান্যতায়।

টাকার বিনিময়ে কল্যাণী এইমসের টোকেন বিক্রি!
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কল্যাণী: বিজেপি বিধায়কের সুপারিশে গিয়েও মিলছে না চিকিৎসা। উল্টে, রোগীদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর সেই সব রোগীদের জন্য বরাদ্দ কুপন নাকি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে একাংশ অসাধু নিরাপত্তারক্ষীদের চক্রের বদান্যতায়। সম্প্রতি, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল কল্যাণী এইমসে। বিষয়টি নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ রোগীর বাড়ির লোকেরা। পাশাপাশি, অভিযোগ কানে পৌঁছতে চটে লাল বিজেপি নেতারাও। 

Advertisement

নদীয়ার শান্তিপুর থানার দিগনগর স্টেশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলপনা রায়। স্নায়ুজনিত কিছু সমস্যায় ভুগছেন তিনি। কল্যাণী এইমসে মায়ের চিকিৎসা করাতে ছেলে সুজিত রায় স্থানীয় এক বিজেপি নেতার দ্বারস্থ হন। তাঁর মাধ্যমেই একটি সুপরিশপত্রও জোগাড় করেন রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিধায়ক অসীম বিশ্বাসের থেকে। কারণ, বিধায়কের সুপারিশে নাকি কল্যাণী এইমসের বহির্বিভাগে চিকিৎসার সুযোগ মেলে। সেই মতো আলপনাদেবীরও সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু, চিকিৎসার পরিবর্তে কপালে জুটল শুধুই হয়রানি। 
ছেলে সুজিতের অভিযোগ, মঙ্গলবার ভোররাত আড়াইটে নাগাদ মাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীর কাছে কুপন চান। প্রথমে তাঁদের কুপন দিতে অস্বীকার করেন। স্পষ্টত জানানো হয়, তালিকায় তাঁদের নামই নেই। সেই সঙ্গে মা-ছেলেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু, সুজিত নাছোড়। জোর করেই তালিকা দেখতে চান তিনি। তখনই তাঁর নজরে আসে, মায়ের নাম লেখা রয়েছে ওই তালিকায়। এরপর কুপন আদায় করে ভিতরে চলে যান তিনি। সুজিত এদিন বলছিলেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীর নাম বাদ দেওয়া বা বদল করা হয়। আমি নিশ্চিত ছিলাম আমার মায়ের নাম রয়েছে তালিকা। অথচ, ওরা দৃঢ়ভাবে বলে দিল আমার মায়ের নাম নেই! শুনেছি, এইভাবে তালিকায় ফাঁকা রোগীদের ভাগিয়ে দিয়ে টাকার বিনিময়ে সেই কুপন ফের বিক্রি করে দেওয়ার একটি চক্র কল্যাণী এইমসে সক্রিয়।’ গোটা বিষয়টি জানিয়ে কল্যাণী এইমস কর্তৃপক্ষকে মেইলও করে সুজিত।  অভিযোগ প্রসঙ্গে বিধায়ক অসীম বিশ্বাস বলেন, ‘আমার মাধ্যমে বহু মানুষই নিয়মিত চিকিৎসার সুযোগ পান। তবে, এ ধরনের অভিযোগ আগে কখনও শুনিনি।’ তবে, সুজিতের অভিযোগের যে ভিত্তি রয়েছে, তা স্বীকার করে নেন জেলার একাধিক বিজেপি নেতাই। নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ করেরও অভিযোগ,  কল্যাণী এইমএসে কুপন বেচাকেনার ঘটনা মাঝেমধ্যেই শোনা যাচ্ছে। আমরা কোনও অনিয়ম সমর্থন করি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিধায়ক বা সাংসদের সুপারিশ নিয়ে গিয়েও যদি রোগীদের এভাবে অপমানিত হতে হয়, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ‘ঘুঘুর বাসা হয়ে গিয়েছে কল্যাণী এইমস। এই চক্র অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার পরিবর্তে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলতে পারে না।’ 
বিষয়টি নিয়ে এইমস কল্যাণীর জনসংযোগ আধিকারিক তথা চিকিৎসক সুকান্ত সরকার বলেন,‘যদি কোনও রোগীর পরিজনদের অভিযোগ থেকে থাকে, তা হলে আমাদের নিজস্ব গ্রিভান্স সেলে অভিযোগ জানাতে পারেন। অবশ্যই সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। টোকেন বিক্রির অভিযোগ উঠলে তা যথেষ্ট গুরুতর। নির্দিষ্ট অভিযোগের জায়গায় যদি সেটি জানানো হয়, তাহলে আমরা পদক্ষেপ নেব।’ - নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ