Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফেডারেশন সভাপতি হিসেবে পাশ মার্কও পাবে না কল্যাণ

আমার ফুটবল কেরিয়ারে সুভাষ ভৌমিকের প্রচুর অবদান। বড় ম্যাচের আগে বুক বাজিয়ে ভৌমিকদা বলতেন, ‘খাঁচাটাই আসল। ম্যাচ জিততে কলজে দরকার।’

ফেডারেশন সভাপতি হিসেবে পাশ মার্কও পাবে না কল্যাণ
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

দেবজিৎ ঘোষ: আমার ফুটবল কেরিয়ারে সুভাষ ভৌমিকের প্রচুর অবদান। বড় ম্যাচের আগে বুক বাজিয়ে ভৌমিকদা বলতেন, ‘খাঁচাটাই আসল। ম্যাচ জিততে কলজে দরকার।’ ব্যক্তিগত মত, জীবনে সাহস আর যোগ্যতাই সাফল্যের মন্ত্র। অথচ সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ঠিক উল্টো। সেখানে অযোগ্যদের ভিড়ে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়। এআইএফএফ সভাপতি প্রাক্তন ফুটবলার। তবে কোনওকালেই কেউকেটা নয়। সন্দীপ, সংগ্রাম, হেমন্তদের সঙ্গে কষ্ট করেও এক পংক্তিতে রাখতে পারছি না। বড় দলের জার্সিতে  কোনওকালেই অপরিহার্য নয়। বরং আমার প্রাক্তন সতীর্থ ভিনরাজ্যের ‘টেনশন ফ্রি’ ক্লাবেই সাবলীল। প্রশাসক হিসাবেও পদে পদে কাঁপুনি। সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতিকে মার্কশিটে কত দেওয়া যায়? দুঃখিত, টেনেটুনে পাশ মার্কও দিতে পারলাম না।

Advertisement

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেশন সভাপতির চেয়ারে বসে কল্যাণ। বঙ্গসন্তান, তার উপর প্রাক্তন ফুটবলার। সবমিলিয়ে আশাবাদী ছিলেন অনেকেই। কিন্তু ছাপোষা কেরানিকে বড়বাবুর দায়িত্ব দিলে ভিরমি খাবেই। প্রথম থেকেই ঠকঠকানি শুরু। একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে স্বপ্নের সলিল সমাধি। ফলাও করে ‘ভিশন ২০৪৭’ তুলে ধরেছিল ফেডারেশন। বিশ্বকাপ খেলাই মূল লক্ষ্য। যা অবস্থা তাতে বিশ্বকাপ দূরের কথা, স্যাফ কাপ জেতাই কষ্টের। পিছতে পিছতে ভারতের ফুটবল র‌্যাঙ্কিং ১৩৩। দুর্বল বাংলাদেশকেও ঘরের মাঠে হারাতে ব্যর্থ ব্লু টাইগার্স। কোচ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ডাহা ফেল সভাপতি। কিংবদন্তি আইএম বিজয়নকে মাথায় রেখে টেকনিক্যাল কমিটি গড়া হয়েছে। তাঁদের ক্ষমতা কতটা? আমি নিশ্চিত, তাঁকে সামনে রেখে কলকাঠি নাড়ছে অন্য কেউ। ইগর স্টিমাচকে ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। কয়েক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নাজেহাল ফেডারেশন। এফএসডিএলের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে। ফলে আইএসএলের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে। অনেক আগেই বিপদ কড়া নাড়ছিল দুয়ারে। পাত্তাই দেয়নি ফেডারেশন। মরণকালে হরিনাম করে লাভ আছে কি? মাথায় ঝুলছে ফিফার নির্বাসনের খাঁড়া। ফুটবলের ইকো সিস্টেমই থমকে রয়েছে। কোনও সদুত্তর নেই ফেডারেশনের কাছে। 
ফুটবল চালাতে টাকা প্রয়োজন। কর্পোরেট সংস্থা থেকে টাকা আদায় করা বেশ কঠিন। সেক্ষেত্রে ফেডারেশনে একটা ‘মুখ’ প্রয়োজন। কিন্তু সেই ওজন সভাপতির নেই। যুক্তি দিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করার মতো বলিয়ে-কইয়ে নন তিনি।  ফুটেজ সর্বস্ব সভাপতির দ্বারা ফুটবলের উন্নয়ন অসম্ভব। স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে অবিলম্বে নতুন কমিটি প্রয়োজন। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। জল বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। সভাপতি সরলেই ভারতীয় ফুটবলের কল্যাণ।
 লেখক প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার। মতামত ব্যক্তিগত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ