Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দায়িত্ব সামলাতে না পারলে কল্যাণ চেয়ার ছাড়ুক: সুব্রত ভট্টাচার্য

বেহাল দশা ফেডারেশনের। ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটাতে এগিয়ে এসেছে ক্লাব জোট।

দায়িত্ব সামলাতে না পারলে কল্যাণ চেয়ার ছাড়ুক: সুব্রত ভট্টাচার্য
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
Prefer us on Google

বেহাল দশা ফেডারেশনের। ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটাতে এগিয়ে এসেছে ক্লাব জোট। আইএসএল আয়োজন করতে চেয়ে ফেডারেশনকে চিঠিও দিয়েছে তারা। কিন্তু তারপরও লিগ আয়োজন নিয়ে থাকছে একাধিক প্রশ্নচিহ্ন। কিন্তু তাতেও ভ্রুক্ষেপ নেই ফেডারেশন কর্তাদের। বরং তাঁরা ব্যস্ত গদি টিকিয়ে রাখতে। ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্যক্তিগত মত বর্তমানের কাছে তুলে ধরলেন প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য।

Advertisement

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতের মুঠোয় জ্বলন্ত সিগারেট। অলস দুপুরে গল্ফগ্রিনের  ড্রইং-রুমে আধশোয়া সুব্রত ভট্টাচার্য। তবে ফুটবলের প্রসঙ্গ উঠতেই আধপোড়া সিগারেট ছাইদানিতে গুঁজে গা-ঝাড়া দিলেন ময়দানের বাবলু। সুর চড়িয়ে মোহন বাগানের ঘরের ছেলের মন্তব্য, ‘দায় নিতে হবে কল্যাণকেই। ওর আমলে এগোনো দূরের কথা, খেলাই বন্ধ। ফুটবল না থাকলে সভাপতির কাজ কী বলতে পারেন?’ কয়েক সেকেন্ড পজ দিয়ে তাঁর সংযোজন, ‘কল্যাণ আমার কোচিংয়ে খেলেছে। খুবই সাধারণ মানের ফুটবলার। ফার্স্ট চয়েস ছিল না কখনও। ফেডারেশন সভাপতি হওয়ার যোগ্যতাই ওর নেই।’ অথচ ফুটবলারদের প্রশাসক পদে আনার সবচেয়ে বড় সমর্থক সুব্রত। মানছেন, সব আশায় জল ঢেলেছে কল্যাণ। দপ করে জ্বলে উঠলেন চিরলড়াকু বাবলু। এক্ষেত্রে তাঁর মন্তব্য, ‘এখনও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, যোগ্য খেলোয়াড়দের প্রশাসনে আসা উচিত। ফুটবলের বেসিক সমস্যাটুকু বুঝতে পারবেন। এই ব্যাপারে কল্যাণ পুরো ফ্লপ। পদ আটকে থাকার যুক্তি নেই। দায়িত্ব সামলাতে না পারলে চেয়ার ছেড়ে দিক। ফুটবল বেঁচে যাবে।’ রীতিমতো উত্তেজিত ‘অর্জুন’ সুব্রত।


সপ্তাহে তিনদিন পার্ক স্ট্রিটের চেনা রেস্তোরাঁয় সুব্রত উপস্থিতি মাস্ট। পুরোনো বন্ধুদের আড্ডায় শৈলেন মান্না থেকে মান্না দে’র প্রবল উপস্থিতি। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের দৈন্যদশায় বিরক্ত তিনি। সুব্রত বললেন, ‘এদেশের ফুটবলে স্বজনপোষণ সবচেয়ে বড় রোগ। অযোগ্য লোকের ভিড়। ঠগ বাঁচতে গাঁ উজাড় হবে। তাই দূরে থাকাই শ্রেয়।’ সন্ধ্যার পর তেমন প্রয়োজন ছাড়া চার দেওয়ালেই বন্দি তিনি। সময় কাটাতে নিউজ চ্যানেল, খবরের কাগজই ভরসা। সেখানেও ফুটবলের দেখা নেই।  উচ্চস্বরে বললেন, ‘ইস্ট বেঙ্গলের প্র্যাকটিস বন্ধ। মোহন বাগান চালিয়ে যাচ্ছে কোনওরকমে। টুর্নামেন্ট বন্ধ। কখনও ভাবিনি এমন দিন দেখতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে ফুটবলকে লাটে তুলল ফেডারেশন।’ সুব্রতর কণ্ঠে একরাশ হতাশা। 
শ্যামনগরের ভূমিপুত্র সুব্রত ভট্টাচার্য। জেলা ফুটবলের পালস বোঝেন। রবিবার নিজের ক্যাম্পে ছোটেন তিনি। বললেন, ‘ছোট ছেলেগুলো বড় দলের জার্সি পরার স্বপ্ন দেখে। জেলায় প্রতিভার অভাব নেই। ফুটবল বন্ধ হলে ওদের কাছে মুখ দেখাতে পারব না।’

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ