সংবাদদাতা, কালনা: কালনা নন্দগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বর বর্ষায় জলে থই থই। স্কুলের পুরনো শ্রেণিকক্ষের টালির চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছে। স্কুলের দু’টি শ্রেণিকক্ষে কোনও রকমে চলছে পাঁচটি ক্লাস। বর্ষায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকরা। স্কুল দপ্তর থেকে মহকুমা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও মিলছে না সুরাহা। এমনই দাবি স্কুলে প্রধান শিক্ষক থেকে অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।
কালনা-১ ব্লকের কৃষ্ণদেবপুর পঞ্চায়েতের এসটিকেকে রোডের ধারে রয়েছে নন্দগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ে পুরানো টালির ঘরের দু’টি শ্রেণিকক্ষ ও দোতলা বাড়িতে রয়েছে দুটি শ্রেণিকক্ষ। টালির ঘরে শিশু শ্রেণি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ক্লাস হয়। দ্বিতল ভবনের দু’টি কক্ষে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নিতেন শিক্ষকরা। বছর দুয়েক ধরে টালির ঘরগুলির বেহাল দশা। বর্ষায় পড়ুয়াদের নিয়ে পঠনপাঠনে ঝুঁকি থাকায় বাধ্য হয়ে টালির চালাঘরের ক্লাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন শিক্ষকরা। ফলে দ্বিতল ভবনের দু’টি শ্রেণি কক্ষে কোনও রকমে পাঁচটি শ্রেণির পঠন পাঠন চলছে। তার উপর রাস্তা থেকে বিদ্যালয় অনেকটাই নিচু হওয়ায় বৃষ্টিতে স্কুল চত্বরে জল জমে যাচ্ছে। নেই স্কুল বাউন্ডারি ওয়াল ও মিড ডে মিল খাওয়ার ঘর। বর্ষায় পড়ুয়ারা আসতে যেতে জল কাদায় পড়ে জখম হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষক ও অভিভাবকদের। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৯। শিক্ষক শিক্ষিকা তিনজন। বেহাল পরিস্থিতির কারণে স্কুলে উপস্থিতির হার কমছে। এলাকার বাসিন্দারা স্কুলের পঠনপাঠনের সুনাম করলেও পরিকাঠামোগত সমস্যা থাকায় এই স্কুলে সন্তানদের ভর্তিতে অনিহা দেখাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম সাহা বলেন, আমি এক বছরও হয়নি জয়েন করেছি। আমি আসার আগেই স্কুলের শ্রেণিকক্ষের সমস্যা ছিল। এছাড়াও বাউন্ডারি ওয়াল ও মিড ডে মিল খাওয়ার জায়গাও নেই। জল নিকাশির সমস্যা রয়েছে। পুরানো টালির ঘরগুলি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। স্কুল চত্বরে বৃষ্টির জল জমে সমস্যায় পড়ে পড়ুয়া থেকে অভিভাবকরা। অনেকে পড়ে গিয়ে জখম পর্যন্ত হয়েছে। স্কুল দপ্তর থেকে প্রশাসনের কাছে সমস্যাগুলি তুলে ধরা হয়েছে। জনপ্রতিধিদেরও জানানো হয়েছে। কোনও সুরাহা মিলছে না।
কালনা পূর্ব চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক রুমা ঘোষ বলেন, স্কুলের সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। টালির ঘর ভাঙার অর্ডার হয়েছে। আর্থিক অনুমোদন না হওয়ায় আটকে আছে। বিডিও সুপ্রতীক সাহা বলেন, স্কুল চত্বরে জল নিকাশি সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যে আধিকারিকরা পরিদর্শন করেছেন। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। কালনা নন্দগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে জমে বৃষ্টির জল।-নিজস্ব চিত্র