সংবাদদাতা, কালনা: রক্ষকই ভক্ষক! দুষ্কৃতীদের নিয়ে বিএসএনএলের মালপত্র চুরির ঘটনায় কালনা মহকুমা বিএসএনএল আধিকারিককে গ্রেপ্তার করেছে কালনা থানার পুলিস। দু’দফায় ১৫ দিন পুলিস হেফাজতের পর মঙ্গলবার ধৃতকে কালনা আদালতে তোলা হয়। ধৃত আধিকারিকের নাম মুকেশ কুমার। বাড়ি বিহার। এছাড়াও ঘটনায় আরও তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এদিন চারজনকে কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা মহকুমার বিএসএনএলের হেড কোয়ার্টার রয়েছে কালনা শহরে। তার অধীনে রয়েছে সিঙ্গারকোণ, বৈদ্যপুর, ধাত্রীগ্রাম, পারুলিয়া ও হাটকালনা শাখা। সম্প্রতি কালনা হেড কোয়ার্টারে এসডিইটি হিসাবে যোগ দেন বিহারের নওদা জেলার বাসিন্দা মুকেশ। মাস কয়েক আগে বিএসএনএলের বিভিন্ন শাখার কনডেম মালপত্র অকশনে টেন্ডার পান উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তি। সেই মতো মার্চের ১৮ তারিখ অকশনের মালপত্র নিতে আসেন উত্তরপ্রদেশের একটি টিম। মুকেশ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেইসব মালপত্র তাদের হাতে তুলে দেন। অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অফিসের বেশ কিছু যন্ত্রপাতির খোঁজ মিলছে না। এদিকে ২১ মার্চ মুকেশবাবু সন্ধ্যার পর তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে সিঙ্গারকোণ বিএসএনএল শাখার কন্ট্রোল রুমে পৌছন। সেখানে কিছু যন্ত্রপাতি তিনজনের সহযোগিতায় একটি চারচাকা গাড়িতে তোলেন। সেই সময় টহলরত পুলিসের হাতে ধরা পড়েন। পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদে মুকেশ কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপরই কালনা থানার পুলিস তিন দুষ্কৃতী সহ মুকেশকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে পুলিস জানতে পারে ২০ মার্চ ধাত্রীগ্রাম বিএসএনএল অফিসে রাত আটটা নাগাদ ওই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নিয়ে মুকেশ পাঁচ পিস ব্যাটারি নিয়ে এসেছিলেন। এরপরই কালনা থানার পুলিস মুকেশ সহ দুর্গাপুরের বাসিন্দা ফিরোজ শেখ, সায়েদ খালেক, সায়েদ নুর আলম নামে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। চারচাকা গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ২২ মার্চ চারজনকে কালনা মহকুমা আদালতে তুলে রিমান্ড নেয় কালনা থানার পুলিস। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস দুর্গাপুর থেকে পাঁচটি ব্যাটারি উদ্ধার করে।
কালনা এসডিপিও রাকেশ চৌধুরী বলেন, পুলিসি টহলের সময় নিদিষ্ট কেসে কালনা মহকুমা বিএসএনএল আধিকারিক সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।