নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পুরোনো চাল যে ভাতে বাড়ে, তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ নাকাশিপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী কল্লোল খাঁ। নাকাশিপাড়ার অন্তর্গত বেথুয়াডহরিতে তৃণমূলের হারানো ভোট ফেরাতে পোড়খাওয়া কল্লোলই ভরসা। গত বিধানসভা নির্বাচনে ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী কল্লোলবাবুর মূল চ্যালেঞ্জ তাঁর খাসতালুক বেথুয়াডহরির হারানো জমি পুনরুদ্ধার। রবিবার বেথুয়াডহরিতে তাঁর সমর্থনে আয়োজিত মহামিছিলের পর ঘাসফুল শিবিরের আত্মবিশ্বাস এখন আকাশচুম্বী। দলের নেতাদের দাবি, এবার জয়ের ব্যবধান আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে।
নাকাশিপাড়া বিধানসভার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বেথুয়াডহরি-১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত। নাগরিক সুযোগ সুবিধার নিরিখে এই এলাকা কোনো পুরসভার থেকে কম নয়। বিদায়ী বিধায়ক কল্লোল খাঁর সৌজন্যে এখানে স্টেট জেনারেল হাসপাতাল থেকে শুরু করে পরিকাঠামোর প্রভূত উন্নতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে এই অঞ্চলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে। বর্তমানে এখানকার পঞ্চায়েতগুলো বিজেপির দখলে। শুধু তাই নয়, পার্শ্ববর্তী নাকাশিপাড়া ও বিল্বগ্রাম পঞ্চায়েতেও পদ্মফুলের প্রভাব যথেষ্ট। গত লোকসভা নির্বাচনেও এই চত্বরে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। ফলে নির্বাচনের শুরুতে কিছুটা চিন্তায় থাকলেও, এখন কল্লোল খাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমাতেই বাজিমাত করতে চাইছে দল। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা ন্যুব্জ হলেও প্রচারের ময়দানে অদম্য এই বর্ষীয়ান নেতা। গত এক মাস ধরে নাকাশিপাড়ার অলিগলি নিজের হাতের তালুর মতো চিনে নিয়েছেন তিনি। প্রচারে বেরিয়ে প্রথাগত রাজনীতির বাইরে বেড়িয়ে মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন করছেন। তাঁর ভাঙা ভাঙা গলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের বার্তা যখন মানুষের দুয়ারে পৌঁছাচ্ছে, তখন তৈরি হচ্ছে এক আবেগঘন পরিবেশ। অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে পাল্টা বলতে শোনা যাচ্ছে যে, কল্লোলবাবুকে আলাদা করে ভোট চাইতে হবে না, তিনি যেন কেবল নিজের শরীরের খেয়াল রাখেন। এই জনসমর্থনই তৃণমূলকে আশাবাদী করছে যে, বেথুয়াডহরি এবার আর বিমুখ করবে না। কল্লোল খাঁ নিজেও যথেষ্ট প্রত্যয়ী। তিনি মনে করেন, নাকাশিপাড়ার ভোল বদলে গিয়েছে এবং মানুষ উন্নয়নের স্বার্থেই ভোট দেবেন। বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মানুষ বিভাজনের রাজনীতিকে বর্জন করবে। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদারের মতে, পাঁচবার বিধায়ক থেকেও কল্লোলবাবু বেথুয়াডহরিকে পুরসভা করতে পারেননি। যা এখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। ফলে মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবেন। নাকাশিপাড়া বিধানসভায় পাঁচবার বিধায়ক হওয়ার পর এবার ষষ্ঠ জয়ের লক্ষ্যে ছুটছেন কল্লোল খাঁ। এটি তাঁর কাছে কেবল একটি নির্বাচন নয়, বরং নিজের সাম্রাজ্য অটুট রাখার লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি বনাম কল্লোল খাঁর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে শেষ হাসি হাসবেন, তার উত্তর লুকিয়ে আছে বেথুয়াডহরির সাধারণ মানুষের হাতেই। তৃণমূল মনে করছে, সমস্ত প্রতিকূলতা কাটিয়ে ‘কল্লোল ক্যারিশমা’-তেই ফিরবে বেথুয়াহডরির হারানো ভোট। • ভোটপ্রচারে নাকাশিপাড়া বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কল্লোল খাঁ। -নিজস্ব চিত্র