নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলার ফুটবলের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে কালীগঞ্জের ডিএফসি ক্লাব। যাকে জেলাবাসী দেবগ্রাম ফুটবল ক্লাব হিসেবেই চেনে। জেলায় প্রত্যন্ত এলাকার মেঠো ফুটবলে বিশেষ নাম রয়েছে এই ক্লাবের। নদীয়া জেলায় প্রান্তিক ফুটবলের প্রসঙ্গে উঠলে দেবগ্রাম ফুটবল ক্লাবের নাম সবার আগে আসে। কারণ এই ক্লাবের হয়ে খেলাধুলা করে অনেকে কলকাতার মাঠ দাপিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম নাম হল রঞ্জিত সরকার, দীপক দত্ত, বিশ্বনাথ পোত। কালীগঞ্জের মানুষ আজও তাঁদের মনে রেখেছেন। যা ডিএফসি ক্লাবে গৌরবান্বিত করে। যদিও শুধু ফুটবল খেলা নয়, সমাজসেবকমূলক কাজেও এই ক্লাব প্রশংসা কুড়িয়েছে জেলাজুড়ে।
তখন বঙ্গভূমি উদ্বাস্তু সমস্যায় জর্জরিত। সীমান্তের নদীয়া জেলাতেও তার প্রভাব পড়েছিল। ১৯৭২ সালের মার্চ মাস নাগাদ কালীগঞ্জে ডিএফসি ক্লাব। ক্লাবের জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রশান্তকুমার মুখোপাধ্যায়, অনুজকুমার মুখোপাধ্যায়, সুনিল চট্টপাধ্যায়, প্রভাতকুমার পণ্ডিত, গৌরাঙ্গ কুণ্ডু, রঞ্জিত সরকার, নিমাই সরকার, পাঁচুগোপালের নাম। তারপর পাঁচদশক অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ক্লাবের ঐতিহ্য আজও অমলিন। আশির দশক ছিল ক্লাবের স্বর্ণযুগ। কারণ ১৯৮০ থেকে ৯০ টানা দশ বছরে ১১বার জেলার লিগে ফাইনালে খেলেছে ডিএফসি। ক্লাবের বর্তমান ট্রেজারার ও পুরনো সদস্য তরুণ আচার্য বলেন, জেলা লিগে সাতবার চ্যাম্পিয়ন ডিএফসি ক্লাব। সেইসময় রাজ্যের শ্যামাপ্রসাদ রায় ট্রফির সেমি ফাইনালেও খেলেছে আমরা। খেলাধুলোর পাশাপাশি রক্তদান শিবির, চক্ষু পরীক্ষার মতো শিবিরের আয়োজন করে সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে এই ক্লাব।
এই ক্লাবের বর্তমান সভাপতি কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের ক্লাবটি জেলার মধ্যে ঐতিহ্যশালী ক্লাব। ফুটবল খেলার জন্য আমাদের ক্লাব বিখ্যাত। আমাদের এখান থেকে খেলে অনেকেই বাইরে গিয়েছেন। খেলাধুলা, শরীরচর্চার পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজ করি আমরা।