নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: শান্তিপূর্ণভাবে উপ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে চূড়ান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে মোট ৩০৯টি বুথ থাকছে। প্রতিটি বুথ পাহারায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বুথে বুথে রুট মার্চ। সাধারণ মানুষকে ভোট দানে উৎসাহিত করতে এবং নির্বাচনী উত্তেজনা প্রশমনে জওয়ানরা স্থানীয়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জ বিধানসভার উপ নির্বাচনে মোট ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যেক কোম্পানিতে ৭২জন করে জওয়ান থাকেন। সেইমতো মোট কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০৮জন। এরমধ্যে এক কোম্পানি জওয়ান স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ১৩ কোম্পানি, অর্থাৎ ৯৩৬জন জওয়ান সরাসরি বুথ পাহারার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় বুথের সংখ্যা ছিল ২৬১টি। তারপর এই বিধানসভায় নতুন করে ৪৮টি বুথ তৈরি হয়। যার ফলে বর্তমানে কালীগঞ্জ বিধানসভায় বুথের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৯টি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার হবে না। তাই বুথ ভাঙা হয় কালীগঞ্জ বিধানসভায়। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রতিটি বুথকে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে মুড়ে ফেলা হবে। শোনা যাচ্ছে, প্রতি বুথে তিনজন বা তারও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য উপস্থিত থাকবেন। যাতে কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। গত এপ্রিল মাসে ইভিএম ও ভিভিপ্যাড চেকিংয়ের কাজ করা হয়েছিল। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিসের পক্ষ থেকেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩০জনকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। পুলিসের আশঙ্কা, ভোটের দিন এদের মধ্যে কেউ কেউ অশান্তি ছড়াতে পারে। সেই আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে।
বুধবার রাতের মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সব জওয়ান কালীগঞ্জে পৌঁছে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁরা বিভিন্ন বুথ এলাকায় রুট মার্চ করেন। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় কালীগঞ্জ থানার পুলিস আধিকারিকরাও। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, কালীগঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিস ও জওয়ান যৌথভাবে কাজ করছে।
অতীতে কালীগঞ্জে ভোট লুট, বুথ দখল সহ নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী না থাকায় বহু জায়গায় পুনরায় নির্বাচন হয়েছিল। যদিও লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। তাই এবার উপনির্বাচন ঘিরে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলের চোখ রয়েছে কালীগঞ্জ বিধানসভার উপর। একদিকে যেমন ভোটে জয়ের মার্জিন বাড়িয়ে শাসক দল নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চাইছে, তেমনই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও জমি ছাড়তে নারাজ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একটি উপনির্বাচনের জন্য এত বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নজিরবিহীন। তবে, ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।