সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: চৈত্রের শেষ দিনে কালিয়াগঞ্জ ও হেমতাবাদে চড়ক পুজো ও মেলা হবে। তার আগে গাজন উৎসবে মেতেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ও হেমতাবাদ ব্লকের বাসিন্দারা। লালশালু পোশাক পরে গাজনের সন্ন্যাসী সেজে ঢাকঢোল পিটিয়ে চলছে মুষ্টি ( চাল, ডাল ও নগদ টাকা) সংগ্রহ। দুই ব্লকের বাজার ও রাস্তাগুলিতে প্রতিদিন নজরে পড়ছে এমন দৃশ্য। চৈত্রের কড়া রোদ উপেক্ষা করে খালি পায়ে কাঠের পাটাতনে শিবের মূর্তি নিয়ে বিভিন্ন দোকানের পাশাপাশি বাড়িতে পোঁছেও তাঁরা অর্থ, চাল, ডাল, সব্জি সংগ্রহ করছেন।
মলয় দত্ত নামে এক উদ্যোক্তা বলেন, কালিয়াগঞ্জ নাট মন্দির প্রাঙ্গণে চড়ক উৎসব হবে। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিতে চড়ক পুজো হয়। এখন দক্ষিণা সংগ্রহ চলছে। চৈত্র মাসে ৩০ দিন ধরে চলে বিশেষ পুজোর পাশাপাশি পুজোর প্রচার। এই বছর কালিয়াগঞ্জের চড়ক মেলার ৪০তম বর্ষ।
চৈত্র মাসে গাজন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন বয়সের মানুষ গাজন সন্ন্যাসী হয়ে থাকে। চৈত্র সংক্রান্তি পর্যন্ত এই ব্রত চলে। শিবের গাজনে দু’জন সন্ন্যাসী শিব ও গৌরী সেজে এবং অন্যান্যরা নন্দী, ভৃঙ্গী, ভূতপ্রেত, দৈত্যদানব প্রভৃতির সং সেজে নৃত্য করতে থাকেন। শিবের নানা লৌকিক ছড়া আবৃত্তি ও গান করা হয়। গাজনে শিবের সঙ্গে কালী নাচ একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান।
হেমতাবাদে ৩৫ বছর ধরে এই চড়ক পুজো ও গাজন উৎসব করে আসছে কাশিমপুর চড়ক উৎসব কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে বিপ্লব সরকার বলেন, চড়ক মূলত শিবের পুজা। চৈত্র সংক্রান্তির দিন মূল পুজো হলেও তার আগে এক সপ্তাহ ধরে চলে গাজন উৎসব। নিরামিশ খাবার খেয়ে গাজন সন্ন্যাসী সেজে বাজারে, পাড়ায়, মন্দিরে ঘোরা হয়। পুজার জন্য অর্থ সংগ্রহ করার পাশাপাশি চড়ক পুজোর নিমন্ত্রণ করা হয় এলাকার বাসিন্দাদের।
হেমতাবাদেরর শালবাগান, সোনাবাড়ি, কালিয়াগঞ্জের মহেন্দ্রগঞ্জ, শিমুলতলা, মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় চৈত্র সংক্রান্তির দিন ঘটা করে চড়ক মেলা হয়। আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এই মেলায় অংশ নেন। গাজন উৎসব শেষে এই চড়ক মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। এই উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কালিয়াগঞ্জ ও হেমতাবাদ থানার পুলিস উদ্যোক্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছে। সব মিলিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে চড়ক উৎসবের।