নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আলোর উৎসবের জন্য প্রজাপতির মতো বাহারি পাখা মেলতে শুরু করেছে পাণ্ডুয়া। ছোট্ট জনপদে পঞ্চাশটির কাছাকাছি পুজো যেমন হয়, তেমনই এই কালীপুজোকে নিজেদের পরিচয় করে ফেলেছেন উদ্যোক্তারা। ফলে, কালীপুজোর মরশুম মানেই আলোর চমক। পাণ্ডুয়ার প্রতিটি পুজোতেই আছে থিম। উপস্থাপনার আড়বহর থেকে আয়োজনের প্রাচুর্য্য নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, কিন্তু থিম নিয়ে প্রশ্ন? না, সম্ভব নয়। ফুলের বাগানে যেমন নানা ফুলের সমাহার, তেমনই থিমের মরুদ্যান হয়ে কালীপুজোয় জ্বলে ওঠে পাণ্ডুয়া। নক্ষত্রখচিত আকাশেও যেমন পৃথক কিছু আলোকরশ্মি নজর কাড়ে, কালীপুজোর মরশুমে পাণ্ডুয়া তার ব্যতিক্রম নয়। আবার, আকাশে নক্ষত্র সমাবেশের বিভাও সত্য।
এবার ৪৯ বছরে পা দিয়েছে পাণ্ডুয়ার নিউস্টার-এর কালীপুজো। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বিরাট আয়োজনে দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রাক-সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে সেই আয়োজনে ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। বৈভবের অতুল আয়োজনে সেজে থাকা রাজবাড়ির আদলে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। সেই মণ্ডপের অন্দর-বাহির সজ্জায় ব্যবহার করা হবে নানা মোটিফ আর নকশা। রাজবাড়ির বাহিরমহলে থাকবে ফোয়ারা। সেখানে থাকবে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের বাহারি সাজ। দেবী প্রতিমা মাটির হলেও তাতে থাকবে আর্টের ছোঁয়া। সঙ্গে থাকবে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতীও। এই বিন্যাস যদি কালীপুজোর নিরিখে অভিনব হয়, তবে আরও একটি বৈচিত্র্য থাকছে। দেবী কালী রুদ্রমূর্তি, প্রচণ্ডা, লোলজিহ্বা। কিন্তু নিউস্টারের মণ্ডপে শান্তিদূতী হিসেবে দেখা যাবে দেবীকে। তাই তাঁর মাটির অবয়বেও রাখা হয়েছে শান্তির রং। তার সঙ্গে থাকছে আলোর বাহার। আলো দিয়ে গোটা মণ্ডপ এবং দীর্ঘ পথঘাট মায়াময় করার বন্দোবস্ত করেছেন উদ্যোক্তারা। পুজো উদ্যোক্তা পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এক মায়ানগরী গড়ছি আমরা। দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেব।
পাণ্ডুয়ার শতদল ক্লাবের এবারের আয়োজন ফলকে রঙের উৎসব। বর্ণময় মণ্ডপসজ্জাতেই তাক লাগিয়ে দিতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। এখানে মণ্ডপসজ্জায় বাঁশ ও বেতের অনবদ্য শিল্প দেখা যাবে। কিছুটা মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়া হলেও তা মন্দির নয়। দীর্ঘ চাতাল পেরিয়ে মূল মণ্ডপে যেতে হবে। আর সেই পথের ধারের সজ্জাও মণ্ডপের সঙ্গে জুড়ে থাকবে। বেতের তৈরি হাতি, আদিবাসী রমনীর অবয়ব স্বাগত জানাবে দর্শকদের। মণ্ডপের মাথায় থাকবে বেতের হাতি ও যোদ্ধানারীর মডেল। বাঁশ ও বেতের সজ্জার মাঝে মাঝে রংবাহারি কাপড়ের সাজ নজর কাড়বে। আর থাকছে আলোর বিশেষ ব্যবহার। মণ্ডপের আড়ালে সুন্দরভাবে আলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা রাতের পাণ্ডুয়ায় নিজস্ব বিভায় বিকশিত হবে। পুজো উদ্যোক্তা অভিজিৎ ঘোষ বলেন, বেতের সাজ থেকে মডেলের এক বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে।