সংবাদদাতা, করিমপুর: কালীপুজোর বাকি আর মাত্র কয়েকটি দিন। করিমপুরের ক্লাবগুলোর ব্যস্ততা তুঙ্গে। শুরু হয়েছে থিমের প্রতিযোগিতা ও প্রস্তুতি। জোরকদমে চলেছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। করিমপুর হাসপাতাল পাড়ার রিক্রিয়েশন ক্লাবের পুজোর থিম ‘আদি যোগী’। এবছর ক্লাবের ৩২তম বর্ষ বলে জানালেন ক্লাবের সদস্যরা। সম্পাদক নিলয়কুমার মণ্ডল জানান, প্রায় সাড়ে ছ’ লক্ষ টাকার বাজেটের পুজো। বাঁশ, কাপড়, থার্মোকল দিয়ে মণ্ডপ সাজানোর কাজ চলছে। থাকবে লেজার আলোর শো। পুজোর তিন দিন এই মণ্ডপে এলাকার ও আশেপাশের মানুষের ভিড় হয়। সেই ভিড় সামলাতে ক্লাবের সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। ক্লাব-আলোকবর্ষের এবারের থিম ‘চেনা ও অচেনা... যেথায় মিলে মিশে একাকার’। ক্লাবের সভাপতি পূর্বায়ন সরকার জানান, এছাড়াও ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের উপর এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হবে। এবছরের পুজোর বাজেট ৫ লক্ষ টাকা। জীবনের প্রতিটি কোণেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব। চেনা ও অচেনা, যা আমরা প্রতিদিন দেখি, ছুঁই, চিনে নিই, সেটাই চেনা। আর যা আমাদের অদেখা, অজানা, অনুভবে অনাবিষ্কৃত সেটাই অচেনা। এই থিম আমাদের মনে করিয়ে দেবে প্রতিটি চেনার মধ্যেও আছে কিছু অচেনা, আর প্রতিটি অচেনার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে এক টুকরো চেনা। মা কালী নিজেও এক অনন্ত রহস্য। তিনি চেনা মায়ের রূপে, করুণায়। আবার অচেনা তাঁর অসীম শক্তি ও ভয়ংকর রূপ। করিমপুর ক্লাবের প্রায় চার লক্ষ টাকার বাজেটের পুজো মণ্ডপে দেখা যাবে বঙ্গোপসাগরের নীল জলের গভীরে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত একটি রহস্যে মোড়া ভূমি নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপ। ক্লাব সম্পাদক রক্তিম মণ্ডল জানান, এই দ্বীপে প্রায় ৬০,০০০ বছর ধরে পৃথিবীর বুকে এক প্রাচীন মানবগোষ্ঠি সেন্টিনেলিজরা বাস করে। এখানে বসবাসকারী সেন্টিনেলিজরা বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। তারা শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে। তির-ধনুক, বল্লম আর কাঠের লাঠি তাদের প্রধান অস্ত্র। আধুনিক সভ্যতা, প্রযুক্তি বা চাষাবাদ, কোনও কিছুরই ছোঁয়া এই দ্বীপে পৌঁছয়নি। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি এমনকি জীবনযাপন পদ্ধতি অভান্ত এক অজানা রহস্য। • চলছে প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র



