নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কালীপুজো শেষ হয়েছে আগেই। কিন্তু বারাসতের নানা রাস্তায় এখনও ঝুলছে বিশাল বাঁশের তোরণ বা ওভারহেড গেট। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কালীপুজোর আগে থেকেই গেট তৈরি হয়েছিল। সরকারিভাবে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, রাস্তার উপর কোনও স্থায়ী বা অস্থায়ী তোরণ করা যাবে না। কিন্তু সেই নির্দেশ মানেনি একাধিক পুজো কমিটি। পুজো মিটে যাওয়ার পরও সেই গেট হয়ে উঠেছে নাগরিকদের আতঙ্কের কারণ। কারণ, গেটগুলির অধিকাংশই বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি। কালীপুজোর সময় রঙিন আলো আর ব্যানারে মোড়া থাকলেও এখন সেগুলি নোংরা-ছেঁড়া কাপড়ে পরিণত হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল বাঁশের কাঠামোগুলি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সামান্য ঝড়বৃষ্টিতেই গেট ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় নেবে কে? এনিয়ে বারাসতের বাসিন্দা পূজা মহান্তি বলেন, কিছু করার নেই। একটু দমকা হাওয়া দিলে ব্যস্ত জাতীয় সড়কে ভেঙে পড়বে গেট। এতদিন পুজো হয়েছে। তারপরেও গেট খোলা হল না।
পুলিশের সমন্বয় বৈঠকে নির্দেশ জারি হয়েছিল, রাস্তার উপর স্থায়ী বা অস্থায়ী তোরণ তৈরি করা যাবে না। আর করা হলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু, বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। পুজো কমিটিগুলির একাংশ সেই নির্দেশ অমান্য করেই বিশাল তোরণ তৈরি করে। পুলিশ তখন নীরব দর্শক। এখন পুজো মিটে যাওয়ার পরও সেই কাঠামো সরানো হয়নি। স্থানীয়দের ক্ষোভ, আসলে সরকারি নির্দেশ কাগজে কলমেই। এখন ঝড়ে গেট ভেঙে মাথায় পড়লে তখন সবাই দায় এড়াবে। এক দোকানদার বলেন, রাতে বাতাসে গেট কাঁপে। বাঁশের গোড়ায় ফাটল ধরেছে। ভয় হয়, হঠাৎ ভেঙে না পড়ে। অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। জানা গিয়েছে, বারাসতের জাতীয় সড়কে প্রতিদিনই থাকে গাড়ির চাপ। আর সেই সড়কেই বিপজ্জনকভাবে রয়েছে একাধিক তোরণ। একইসঙ্গে রাস্তা দখল করে রাখা হয়েছে অস্থায়ী বাঁশের কাঠামো। ফলে, দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন মানুষ। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বারাসতের টাকি রোডে একটি তোরণ ভেঙে পড়ে ব্যাহত হয় যান চলাচল। তারপরেও এখনও স্বমহিমায় রাস্তায় আছে তোরণ। এদিকে, আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নতুন করে মন-থা ঘূর্ণিঝড় চাপ বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া সহ প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। সেই কারণে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে মানুষের। এনিয়ে টোটোচালক ছোট্টু দে বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তায় টোটো নিয়ে যেতে ভয় হয়। পুজো কমিটি এবার এই গেট খোলার ব্যবস্থা করুক।
বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, প্রতিটি পুজো কমিটিকে পুলিশের পক্ষ থেকে ওভারহেড গেট খুলে ফেলতে বলা হয়েছে। কমিটিগুলি আশ্বাস দিয়েছে দ্রুত খুলে ফেলার। আমরা বিষয়টির উপর নজর রাখছি।-নিজস্ব চিত্র