Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিপ্লবীদের হাত ধরে কালীপুজোর সূচনা, ভিড় জমে পাহাড়ের চূড়ায় পুজো দেখতে

বিপ্লবীদের হাত ধরে কালীপুজোর সূচনা, ভিড় জমে পাহাড়ের চূড়ায় পুজো দেখতে
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিতাই সাহা, পুরুলিয়া:

Advertisement

ঝালদা শহরের মাঝে সবুজের জঙ্গলে ঘেরা শিলফোঁড় পাহাড় অন্যন্য নৈসর্গিক সৌন্দর্যের প্রতীক। প্রকৃতি যেন সেখানেই সমস্ত রূপ উজার করে দিয়েছে। পরাধীন ভারতে জঙ্গলে ঘেরা ওই পাহাড়ের চূড়া ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল অগ্নিযুগের বিল্পীদের গোপন ডেরা ছিল। লোকমুখে প্রচলিত, একসময় ওই গোপন ডেরাতেই বিপ্লবীদের হাত ধরে কালীপুজোর সূচনা হয়েছিল। বর্তমানে সেই পুজোর দায়িত্ব শহরবাসীর কাঁধে রয়েছে। রীতিমতো কমিটি গড়ে হয় পুজোর আয়োজন। তবে, আজও পুজোর রীতিতে কোনও বদল আসেনি। পুরনো রীতি মেনেই ধুমধাম করে পুজো হয়। ফি বছরই পুজোর সময় আলোর রোশনাইয়ে নতুন রূপে সেজে ওঠে পাহাড়। এবছরও পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। মন্দিরের পূজারি দ্বিজাশিস চক্রবর্তী বলেন, প্রথম দিকে পাহাড়ের চূড়ায় খড়ের ছাউনির ছোট্ট মন্দির ছিল। পরে ঝালদার জমিদার রায়সাহেব প্রেমচাঁদ মোদকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানেই স্থায়ী মন্দির নির্মাণ নির্মাণ হয়েছিল। তারপর ধীরে ধীরে মন্দির চত্বর সেজে উঠে। এই মন্দির বিপ্লবী যুগের বহু অজানা স্মৃতি বহন করে চলেছে। 
ঝালদার অন্যতম বিপ্লবী হিসেবে প্রথমেই নাম উঠে আসে সত্যকিঙ্কর দত্তের। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বিশিষ্ট লাঠিয়াল ছিলেন। দেশ স্বাধীনের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে সদলবলে ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিলেন। সেই সময় ওই পাহাড়ের চূড়ার গোপন ডেরায় তাঁদের আলোচনা চলত। এমনকী মাঝেমধ্যেই ওই পাহাড়ের চূড়ায় তাঁরা গা ঢাকা দিয়েও থাকতেন। স্থানীয়দের কথায়, সালটা অস্পষ্ট। তবে, পরাধীন ভারতে বিপ্লবীদের হাত ধরেই পাহাড়ের চূড়ায় পুজোর সূচনা হয়েছিল। সেই সময় খড়ের ছাউনির ছোট্ট একটি মন্দির ছিল। ইতিহাসের গন্ধ মেখে থাকা পাহাড়ের চূড়ার ওই মন্দিরের কালীপুজো আজ সর্বজনীন। পুজোর সময় শহর সহ সংলগ্ন এলাকা এবং পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বহু বাসিন্দাও ভিড় জমান। 
লোকমুখে প্রচলিত, প্রথমে ঘট প্রতিষ্ঠা করে ওই পাহাড়ের চূড়ায় পুজো হতো। পরে মূর্তি স্থাপন হয়। বর্তমান সময়ে ওই মন্দিরে নিত্য পুজো হয়। প্রায় সারা বছরই ওই মন্দির চত্বরে পুণ্যার্থীদের আনাগোনা হয়। তবে পুজোর সময় হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভিড় জমে। স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব বলরাম মণ্ডল বলেন, ওই পুজো বহু পুরনো। বহু ইতিহাসের সাক্ষী। অগ্নি যুগের বিপ্লবীরা পাহাড়ের চূড়ায় গোপন ডেরায় আলোচনা সারতেন। আমাদের কাছে পাহাড়ের চূড়ার ওই পুজো আবেগের। ছেলেবেলা থেকেই পুজোর কটা দিন ওই মন্দির চত্বরেই আমাদের আনাগোনা। এবারও পুজোর সময় ১২৮টি সিঁড়ি ভেঙে মন্দিরে পৌঁছব। তবে, একসময় মন্দিরে পৌঁছতে হলে পাহাড়ের গা বেয়ে চলতে হতো।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ