সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: বারুইপুরের শিবানী কুটিরের কালী যেন ঘরের মেয়ে। তিনি সাজতে ভালোবাসেন। হাতে ঘড়ি পরেন। চা-বিস্কুট খান। বাড়িতে শিঙারা এলে তাঁকে দিতে হয়। বাড়ির সকলের দিকে তাঁর সজাগ দৃষ্টি। রাতে পরিবারের সবাই ঠিকঠাক বাড়ি ফিরেছে কি না তার দিকে লক্ষ্য রাখেন। সবাই ফেরার পর তবেই তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ করা যায়।
শিবানী কুটির ভট্টাচার্যদের। সে বাড়ির পূর্বপুরুষ দিলীপ ভট্টাচার্য স্বপ্নে কালীকে দেখেছিলেন মেয়ে রূপে। স্বপ্নে কালী তাঁকে বলেছিলেন, পুজো শুরু করতে। তারপর পুজোর প্রস্তুতি শুরু করেন দিলীপ। মূর্তি তৈরি হবে নিমকাঠ দিয়ে, এটাও তখন কালী স্বপ্নাদেশে জানিয়েছিলেন। তারপর বারুইপুরের বেগমপুর থেকে নিমকাঠ আনা হয়। তা দিয়ে বানানো হয় মূর্তি। রটন্তী কালীপুজোর দিন হয় প্রতিষ্ঠা। দিলীপ ভট্টাচার্য কালীপুজো করতে করতেই একদিন মারা গিয়েছিলেন।
শিবানী কুটিরে কালীর নিত্যপুজো। দেওয়া হয় অন্নভোগ। মাছ থাকে। পরিবারের সদস্য রজত ভট্টাচার্য বলেন, ‘মায়ের ভক্তরা এসে মন্দির তৈরি করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মা মন্দিরে থাকতে রাজি হননি। তিনি টালির চালের ঘরই পছন্দ করেছিলেন। আমরা ছাদ ঢালাই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মায়ের অনিচ্ছাতেই তা করা যায়নি। আমার বাবা দিলীপ ভট্টাচার্য ২০ বছর বয়স থেকে মায়ের পুজো করেছেন।’ এই পরিবারেরই সদস্য পূজারি সুরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘পুজোর সময় মাকে খিচুড়ি ভোগ, ৩১ রকম ভাজা, দু’রকমের পায়েস দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন রকমের নাড়ু তো আছেই। ভক্তদের দেওয়া গয়নাতে তিনি সেজে ওঠেন। তাঁর আদেশেই বলি দেওয়া হয় না। আখ উৎসর্গ করা হয়। কেউ মানত করলে তাঁকে দেওয়া হয় মায়ের ফুল ও মাটি।’ এই পরিবারের বধূ কৃষ্ণা ভট্টাচার্য ও সুমনা ভট্টাচার্য বলেন, ‘মায়ের আরাধনা হয় মায়ের নির্দেশেই।’ নিজস্ব চিত্র



