স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: প্রায় ২৫০ বছর আগে সাগরের ধসপাড়া গ্রামে শুরু হয়েছিল কালীপুজো। তখন ছোটো মন্দির তৈরি করা হয়েছিল। তার ১০০ বছর পর কংক্রিটের স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা হয়। যদিও সেই মন্দির ভগ্নপ্রায় হয়ে যায়। বর্তমানে নতুন করে কংক্রিটের স্থায়ী মন্দির তৈরির কাজ চলছে। এখনও পর্যন্ত মন্দিরের আশপাশে কোনো স্থায়ী দোকান নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। কারণ অনেকের বিশ্বাস, দেবী চান না তাঁর চারপাশে স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে কেউ ব্যবসা করুক। অতীতে এই জায়গায় কয়েকটি দোকান হয়েছিল। কিন্তু তিন থেকে চারদিনের মধ্যে দোকানগুলি আপনে আপ ভেঙে পড়ে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত কেউ ওখানে স্থায়ী দোকান তৈরি করেননি। শুধু তাই নয়, আগে মন্দির চত্বরে রাতে কেউ আলো জ্বালাতে পারত না। আলো জ্বালালেই কিছুক্ষণের মধ্যে যেত নিভে। এলাকার মানুষ বিশ্বাস করেন, রাত হলে মন্দির থেকে বাইরে বের হন দেবী। অতীতে গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা তা অনুভবও করেছিলেন।
২৫০ বছর আগে এই এলাকা ছিল জঙ্গলে ভরা। সেই জঙ্গল কাটার সময় একটি বটগাছের নীচ থেকে শীলা পাওয়া যায়। সেটি লাল সিঁদুর মাখা। তা দেখার পরই বটগাছটিকে আর কাটা হয়নি। গাছটি এখনও দাঁড়িয়ে। তখন থেকেই গাছটির নীচে শিলার পুজো শুরু হয়। অতীতে রাত হলে বটগাছের নীচে বাঘ ও অন্যান্য পশুর আনাগোনা ছিল। গ্রামবাসীরা সেই পায়ের ছাপ দেখেওছেন। তাঁরা মনে করেন, ঠাকুর খুবই জাগ্রত। রাত হলে তিনি বাইরে বের হন। মন্দিরের পুরোহিত প্রকাশ পন্ডা বলেন, ‘অতীতে বলি হত। বর্তমানে হয় না। তবে পুজো দিতে আসা ভক্তরা মাছের ঝোল রান্না করে ভোগ দেন। দেবী খুবই জাগ্রত। মানত করলে ভক্তদের মনের আশা পূরণ করেন। তাই দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর ভক্ত এখানে পুজো দিতে আসেন।’



