Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিনে মিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ, রাতে লোকগান শোনান কাকদ্বীপের লালন

শনিবার বিশ্ব সঙ্গীত দিবস। কিন্তু লালু খাঁ এই দিনটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ তাঁকে লোকসঙ্গীতশিল্পী বলেই চেনে লোকে।

দিনে মিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ, রাতে  লোকগান শোনান কাকদ্বীপের লালন
  • ২১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: শনিবার বিশ্ব সঙ্গীত দিবস। কিন্তু লালু খাঁ এই দিনটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ তাঁকে লোকসঙ্গীতশিল্পী বলেই চেনে লোকে। সুর ও ছন্দ তাঁর গলায় যেন বন্দি হয়ে রয়েছে। তাঁর গান শুনে মোহিত হয় মানুষ। লালু গেরুয়া পরেন। রাতে গলায় ঝোলান রাজ্য সরকারের দেওয়া লোকশিল্পীর কার্ড। তখন কাকদ্বীপের পশ্চিম বেরারচকের বাসিন্দা লালু হয়ে ওঠেন লালন খ্যাপা। দিনের বেলায় রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেন বা ভ্যান চালান। অভাবের সংসারে তিনিই একমাত্র রোজগেরে সদস্য। 

Advertisement

লালুবাবুর পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী। দুই সন্তান। সম্প্রতি বাংলা আবাস যোজনার টাকায় ঘর তৈরি করেছেন। সেই ঘরে রাখা থাকে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। ছোটবেলা থেকেই লোকগান গাইতেন। গুরু হিসেবে তেমন কেউ ছিলেন না। রেডিওতে লালন ফকিরের গান শুনে শুনে শিখেছেন। ছোটবেলায় লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল ট্রেন ও নামখানার খেয়াঘাটের যাত্রীদের গান শুনিয়ে রোজগার শুরু। একটু বড় হয়ে নিজের চেষ্টায় একতারা ও ও অন্যান্য বাদ্য শিখেছেন। এখন মঞ্চে একতারা বাজিয়ে গান করেন। সরকারের কাছে লোকশিল্পীদের যে তালিকা রয়েছে তাতে তাঁর নাম উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা। এই অঞ্চলের জনপ্রিয় শিল্পী লালন খ্যাপা। তাঁর গান শুনে মেতে ওঠেন হাজার হাজার দর্শক। শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা ও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গান গেয়েছেন। সম্বর্ধনাও পেয়েছেন। লালুবাবু বলেন, ‘বিশ্ব সঙ্গীত দিবস কোনদিন আমার জানা নেই। কিন্তু লোকসঙ্গীত আমার ধ্যান ও জ্ঞান। প্রতি মাসে রাজ্য সরকারের দেওয়া শিল্পী ভাতা পাই। সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে গান করে থাকি। কিন্তু তাতে সংসার চলে না। তাই দিনের বেলায় শ্রমিকের কাজ করতে হয়। রাতে মঞ্চে উঠে গান করি। এই এলাকার বাসিন্দারা আমাকে লালন খ্যাপা নামে চেনেন।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ