Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীর হাতে ‘ঘাড়ধাক্কা’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ কাজল শেখের

রামপুরহাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার শেষে অস্বস্তিকর মুহূর্তের সাক্ষী হলেন হাসনের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখ।

শুভেন্দুর নিরাপত্তারক্ষীর হাতে ‘ঘাড়ধাক্কা’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ কাজল শেখের
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রামপুরহাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভার শেষে অস্বস্তিকর মুহূর্তের সাক্ষী হলেন হাসনের তৃণমূল বিধায়ক কাজল শেখ। বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করায় নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে কার্যত ঘাড়ধাক্কা খেতে হল বীরভূম জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতিকে। একাধিকবার মরিয়া চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাঁর দিকে ফিরেও তাকাননি মুখ্যমন্ত্রী। উলটে তাঁকে সরিয়ে দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করে রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়েছেন কাজল।

Advertisement

শনিবারের ওই ঘটনার পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজল লেখেন, ‘কথায় নয়, সময়ের পাতায় জবাব লেখা থাকবে। শুধু ছ’মাস অপেক্ষা করো। সুদ সহ ফেরত দেওয়া হবে। আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভেবো না। সবরকম খেলার অভ্যাস আছে।’ রবিবার সন্ধ্যায় ফের একটি পোস্টে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘শহিসের রক্তের উত্তরাধিকার আমি। সুবিধার সময়ের সঙ্গী নই। পতাকা বদলানোর রাজনীতি আমি শিখিনি। আদর্শ আঁকড়েই লড়াই করব।’ সেইসঙ্গে লেখেন, ‘পথ যতই কঠিন হোক, অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়। দুর্নীতির কাছে মাথা নত করব না।’
যদিও ভাইরাল ভিডিও এবং ফেসবুক পোস্ট নিয়ে ওঠা যাবতীয় বিতর্ক নস্যাৎ করে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন কাজল নিজেই। তাঁর দাবি, ‘এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ একতরফাভাবে প্রচার করা হচ্ছে। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে আমার এলাকার দু’টি সেতু, বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। তিনি আমাকে পরে দেখা করতে বলেছিলেন। সেকারণেই আমি মুখ্যমন্ত্রী বেরনোর আগে দেখা করতে গিয়েছিলাম। প্রথমে বুঝতে না পেরে নিরাপত্তারক্ষীরা সরিয়ে দিলেও পরে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে নবান্নে এসে দাবিদাওয়া জানাতে বলেছেন।’ কাজলের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যাঁরা অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাঁদের উদ্দেশ্যেই ওই ফেসবুক পোস্ট।
তবে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য সমীকরণ। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, কাজল বর্তমানে রাজনৈতিক দোলাচলে ভুগছেন। রাজ্যে পালাবদলের পর জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ রক্ষা করতেই তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘নতুন তৃণমূল’-এ যোগ দিয়েছিলেন। বিধানসভায় ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা চেয়ে সইও করেছিলেন। কিন্তু ঘটনাচক্রে তাঁর একদা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অনুব্রত মণ্ডল সেই দলের জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দূরত্বের সূত্রপাত। এমনকী, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূল ভবনের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক এবং রবিবার রামপুরহাটে প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মরণসভায় ‘ঋত তৃণমূল’-এর রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকলেও সেখানে গরহাজির ছিলেন কাজল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ