Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কড়া তৃণমূল, শাস্তির ভয়ে কাঁপছেন কাঁথি সমবায়ের গোঁজ প্রার্থীরা

কড়া তৃণমূল, শাস্তির ভয়ে কাঁপছেন কাঁথি সমবায়ের গোঁজ প্রার্থীরা
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দলের নির্দেশ সত্ত্বেও সমবায় ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াননি। বরং আত্মবিশ্বাসে ভর করে আশ্চর্য কিছু করে দেখানোর আশায় ছিলেন কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচনে তৃণমূলের গোঁজপ্রার্থীরা। অধিকাংশের সেই আশা পূরণ হয়নি। বরং কাউন্সিলার, দলের নেতা হয়েও পার্টির নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে কুপোকাত হয়ে গিয়েছেন। এখন ওইসব নেতার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দলের নির্দেশ অগ্রাহ্য করায় শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে কিনা তানিয়েও বিস্তর আলোচনা চলছে। আগামী শনিবার দলের নেতৃত্ব মিটিংয়ে বসবে। সেখানে পার্টির নির্দেশ ভাঙা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ হবে কিনা তা ঠিক হবে।
Advertisement
কাঁথি পুরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রীনা দাস কাঁথি-৩ নম্বর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। দল অনুমোদন না দেওয়ার পরও লড়াই থেকে সরে দাঁড়াননি। ভোটে হেরে গিয়েছেন। একইভাবে কাঁথি পুরসভার ২০নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি সিদ্ধেশ্বর প্রধান দলীয় অনুমোদন না থাকার পরও গোঁজ প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে ছিলেন। কাঁথি-১ কেন্দ্র থেকে ওই তৃণমূল নেতা ভোটে জিততে পারেননি। দলের নির্দেশে লড়াই থেকে সরে না আসায় কর্মীরা প্রশ্ন তোলেন। শুধু কাঁথি পুরসভা নয়, গ্রামীণেও অনেক নেতা-কর্মী গোঁজ হিসেবে লড়াই করে পরাজিত হয়েছেন। কাঁথি-৩ নম্বর ব্লকে দুরমুঠ পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য স্বপন মাইতি দলের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সমবায়ে প্রার্থী হন। কাঁথি-৬ নম্বর কেন্দ্রে তিনি লড়াই করে সুবিধা করতে পারেননি। ওই কেন্দ্রে দলের তিন প্রার্থীরই পরাজয় হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দলের ব্লক সভাপতি নন্দদুলাল মাইতিও আছেন। ওই একমাত্র কেন্দ্রে তৃণমূল সবকটি আসনে পরাজিত। ভোটের ফল বেরনোর পর কর্মীদের অনেকের মন্তব্য‌, গোঁজপ্রার্থীরা নিজেদের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করেছেন। তাই কাঁথি-৬ আসনে তিন প্রার্থীরই পরাজয় হয়েছে। কাঁথি-৫নম্বর কেন্দ্রে গোঁজ প্রার্থী হন তৃণমূল কর্মী আব্দুর রহমান। তিনিও ভোটে জিততে পারেননি।
গোঁজ প্রার্থীদের লড়াইয়ে নামার পিছনে কাঁথির প্রভাবশালী নেতাদের মদত ছিল বলে অনেকের ধারণা। ১১ডিসেম্বর কোলাঘাটে দলের নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে মিটিং হয়। সেখানে দলের পক্ষ থেকে ১০৮জনের নামের প্যানেল প্রকাশ করে বাকিদের সরে দাঁড়ানোর বার্তা পাঠানো হয়। লিফলেট দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ওই প্রস্তাব কোনও গোঁজ প্রার্থী গ্রহণ করেননি। তিনজন ছাড়া অধিকাংশ গোঁজপ্রার্থীর পরাজয় হয়েছে।
কাঁথি শহর তৃণমূল সভাপতি হরিসাধন দাসঅধিকারী বলেন, আগামী শনিবার পার্টি নেতৃত্ব আলোচনায় বসবে। সেখানে দলের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
সম্পর্কিত সংবাদ