নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: জলভর্তি খাদানে উদ্ধারকার্য করার কোনও যন্ত্রাংশই নেই ইসিএলের রেসকিউ বিভাগের কাছে। এমনকী, লাইফ কিংবা ওয়াটারপ্রুফ জ্যাকেটও নেই। তা সত্ত্বেও বিপদে পড়লে অভিযানে নামতে হয়, নামাতে হয়। যাঁদের নামানো হয় তাঁদের জীবনের ঝুঁকি থাকে সর্বোচ্চ। ভরসা গ্রাম বাংলার দামাল ছেলে সাজাদ, বিপদরাই। সম্প্রতি জামুড়িয়া থানার কাঁটাগড়িয়ায় কুয়ো খাদে এক ব্যক্তি পড়ে যান। তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে লেজেগোবরে হয় ইসিএল কর্তৃপক্ষকে। তখনই পেরিয়ে উদ্ধার অভিযান সংক্রান্ত কঙ্কালসার চেহারা। পরে রেসকিউ টিমের ক্রেন ব্যবহার করে ওই ব্যক্তির দেহটি তুলে আনেন শেখ সাজাদ, তাঁর সাইকেলটি তুলে আনেন বিপদ গোপ। ইসিএল একের পর এক বড় কোলিয়ারি প্রজেক্ট নিচ্ছে। প্রতি বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে। অথচ, রেসকিউ টিমের পরিকাঠামো থেকে গিয়েছে সেই তিমিরেই।
Advertisement
ঝাঁজরা, সোনপুরবাজারি, রাজমহলের মতো বৃহৎ কয়লা প্রকল্প ইসিএলের হাতে। সোনপুরবাজারি ওসিপি প্রজেক্ট দেশের বৃহত্তম কয়লা উত্তোলন প্রকল্পগুলির অন্যতম। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভের অত্যন্ত গভীর থেকে কয়লা উত্তোলনের গতি এসেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার কয়লা বিক্রি করে মুনাফা করছে। অথচ, শ্রমিক ও এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দিকে যে নজর নেই কেন্দ্রীয় সংস্থার তা শুক্রবার জামুড়িয়ার ঘটনা থেকে স্পষ্ট।
জানা গিয়েছে, কয়লা চুরি করতে গিয়ে সিআইএসএফের তাড়া খেয়ে অবৈধ কুয়ো খাদে পড়ে যান ভীষম রায়। মহাবীর কোলিয়ারি এলাকায় বাসিন্দাকে দ্রুত উদ্ধার করার দাবি জানিয়ে বহু মানুষ জমায়েত হন। ইসিএলের মাইনস রেসকিউ টিম ক্রেন নিয়ে আসে। ৬০ ফুট গভীরে নেমেই টিমের সদস্যরা বুঝতে পারেন উদ্ধারকার্য কঠিন। কুয়ো খাদটি কমপক্ষে ১২০ ফুট গভীর। সেখানে ১৫ থেকে ২০ ফুট জল রয়েছে। জল দেখেই উদ্বেগ বাড়ে উদ্ধারকারী দলের। ইসিএল যে যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তা নিয়ে জলে নামলে বিকল হয়ে যায়। তাই খবর দেওয়া হয় এনডিআরএফের ডুবুরিদের। আনা হয় অত্যাধুনিক ক্রেন। যদি সাধারণ মানুষ ডুবুরির জন্য অপেক্ষা না করেন এবং উত্তেজনা বাড়ে—এই আশঙ্কা থেকে কুয়ো খাদে নামতে পটু শেখ সাজাদকে রেসকিউ টিমের বিশেষ খাঁচায় করে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ভীষম রায়কে উপরে তুলে আনেন। যদিও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আগেই স্থানীয় বিপদ গোপ খাদে নেমে ভীষমের সাইকেল উদ্ধার করে এনেছিলেন।
খনি অঞ্চল ঘিরে একের পর এক ওসিপি গড়ছে ইসিএল। বহু ওসিপি আবার পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দিচ্ছে। ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওসিপি দুর্ঘটনায় কী করে উদ্ধারকাজ হয় তার কোনও বিশেষ রেসকিউ টিমই গড়ে ওঠেনি। অথচ, জল ভর্তি অবস্থায় খাদানগুলি পড়ে রয়েছে। সেখানে ডুবে যাওয়ার মতো বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সেক্ষেত্রে কার্যত ঠুটো জগন্নাথের দশা ইসিএলের উদ্ধারকারী দলের। উদ্ধারকার্য নিয়ে ইসিএলের কী করে এতটা অবহেলা করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এনিয়ে ইসিএলের জনসংযোগ আধিকারিক পিনাকী চট্টোরাজকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসের উত্তর দেননি।
সিটুর জেলা সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, ইসিএলে এখন উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া কোনও কিছুর দিকে নজর দিচ্ছে না। একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে খনিতে। ইসিএল নিজের দায়িত্ব এভাবে এড়িয়ে যেতে পারে না। রাজ্য সরকারেরও উচিত খনি অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রিভিউ করা।
জানা গিয়েছে, কয়লা চুরি করতে গিয়ে সিআইএসএফের তাড়া খেয়ে অবৈধ কুয়ো খাদে পড়ে যান ভীষম রায়। মহাবীর কোলিয়ারি এলাকায় বাসিন্দাকে দ্রুত উদ্ধার করার দাবি জানিয়ে বহু মানুষ জমায়েত হন। ইসিএলের মাইনস রেসকিউ টিম ক্রেন নিয়ে আসে। ৬০ ফুট গভীরে নেমেই টিমের সদস্যরা বুঝতে পারেন উদ্ধারকার্য কঠিন। কুয়ো খাদটি কমপক্ষে ১২০ ফুট গভীর। সেখানে ১৫ থেকে ২০ ফুট জল রয়েছে। জল দেখেই উদ্বেগ বাড়ে উদ্ধারকারী দলের। ইসিএল যে যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে তা নিয়ে জলে নামলে বিকল হয়ে যায়। তাই খবর দেওয়া হয় এনডিআরএফের ডুবুরিদের। আনা হয় অত্যাধুনিক ক্রেন। যদি সাধারণ মানুষ ডুবুরির জন্য অপেক্ষা না করেন এবং উত্তেজনা বাড়ে—এই আশঙ্কা থেকে কুয়ো খাদে নামতে পটু শেখ সাজাদকে রেসকিউ টিমের বিশেষ খাঁচায় করে নামিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ভীষম রায়কে উপরে তুলে আনেন। যদিও চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তার আগেই স্থানীয় বিপদ গোপ খাদে নেমে ভীষমের সাইকেল উদ্ধার করে এনেছিলেন।
খনি অঞ্চল ঘিরে একের পর এক ওসিপি গড়ছে ইসিএল। বহু ওসিপি আবার পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে দিচ্ছে। ইসিএল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওসিপি দুর্ঘটনায় কী করে উদ্ধারকাজ হয় তার কোনও বিশেষ রেসকিউ টিমই গড়ে ওঠেনি। অথচ, জল ভর্তি অবস্থায় খাদানগুলি পড়ে রয়েছে। সেখানে ডুবে যাওয়ার মতো বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সেক্ষেত্রে কার্যত ঠুটো জগন্নাথের দশা ইসিএলের উদ্ধারকারী দলের। উদ্ধারকার্য নিয়ে ইসিএলের কী করে এতটা অবহেলা করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এনিয়ে ইসিএলের জনসংযোগ আধিকারিক পিনাকী চট্টোরাজকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএসের উত্তর দেননি।
সিটুর জেলা সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরী বলেন, ইসিএলে এখন উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া কোনও কিছুর দিকে নজর দিচ্ছে না। একের পর এক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে খনিতে। ইসিএল নিজের দায়িত্ব এভাবে এড়িয়ে যেতে পারে না। রাজ্য সরকারেরও উচিত খনি অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রিভিউ করা।



