সংবাদদাতা, কাঁথি: প্রখ্যাত সংস্কৃতজ্ঞ, কবি, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক জ্যোতির্ময় নন্দ সম্প্রতি মহামহোপাধ্যায়(মরণোত্তর) সম্মান পেয়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়ার সন্তান অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বহু শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমবায় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর এই সম্মানপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে শনিবার বিকেলে মুগবেড়িয়াবাসী ‘জ্যোতির্ময় বন্দনা’ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তাঁকে সম্মান জানালেন। মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের বাণেশ্বর মাইতি বিজ্ঞান ভবন সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা, সমবায় ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এই সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ হরিপদ মাইতি, প্রাক্তন মন্ত্রী কিরণময় নন্দ, অধ্যাপক ব্রহ্মময় নন্দ, আঞ্চলিক ইতিহাসবিদ মন্মথনাথ দাস প্রমুখ।
গত ৭মার্চ কলকাতার মহাজাতি সদনে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ওরিয়েন্টাল হেরিটেজের ৪৬তম বার্ষিক সম্মেলনে জ্যোতির্ময়কে মহামহোপাধ্যায় সম্মানে ভূষিত করা হয়। তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল জিষ্ণুদেব বর্মা এই সম্মাননা জ্যোতির্ময়বাবুর মধ্যমপুত্র কিরণময় ও কনিষ্ঠপুত্র চৈতন্যময় নন্দের হাতে তুলে দেন। প্রসঙ্গত, জ্যোতির্ময়বাবুর জন্ম ১৯০৮সালের ৬সেপ্টেম্বর মুগবেড়িয়াতে। ম্যাট্রিক, স্কটিশ চার্চের আইএসসি, সংস্কৃত কলেজে বিএ সবক’টি পরীক্ষাতেই তিনি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। বেদান্ত নিয়ে এমএ সহ নানা ডিগ্রি তাঁর দখলে ছিল। বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ বুৎপত্তি ছিল জ্যোতির্ময়বাবুর। সহস্রাধিক নিবন্ধ, অজস্র সংস্কৃত ও বাংলা কবিতার রচনা করেছেন তিনি। বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। কয়েকবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংস্কৃত শিক্ষা পর্ষদের সদস্য নির্বাচিত হন জ্যোতির্ময়বাবু। শিক্ষাদানের সঙ্গে সমাজসেবা সমানতালে করে গিয়েছেন। তিনি মুগবেড়িয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, মুগবেড়িয়া হাইস্কুলের সম্পাদক, মুগবেড়িয়া ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান সহ নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৫নভেম্বর প্রয়াত হন এই দিকপাল ব্যক্তিত্ব।-নিজস্ব চিত্র