Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ট্রেনে গান গেয়ে মন কেড়েছেন, জ্যোতি মজুমদার এখন ভাইরাল

বাবা ট্রেনে গান গাইতেন। ছোট মেয়েটি সঙ্গে যেত। বাবার সঙ্গে সুরে সুর মেলাত। ছোট থেকেই বেশ সুরেলা গলা।

ট্রেনে গান গেয়ে মন কেড়েছেন, জ্যোতি মজুমদার এখন ভাইরাল
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বাবা ট্রেনে গান গাইতেন। ছোট মেয়েটি সঙ্গে যেত। বাবার সঙ্গে সুরে সুর মেলাত। ছোট থেকেই বেশ সুরেলা গলা। একদিন কিডনির অসুখ ধরা পড়ল বাবার। আর গোটা সংসারটা পড়ল অথই জলে। মেয়েটি এতদিনে বড় হয়েছে। সে বাবার গানগুলি নিয়ে একাই উঠল ট্রেনে। বাংলা গানই মূলত গায়। পাশাপাশি হিন্দি থেকে নেপালি গানও গেয়ে ফেলে অবলীলায়। তার গলা আরও সুরেলা হয়ে উঠেছে। ফলে মুগ্ধ শ্রোতার অভাব নেই। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অনেকে মোবাইলে ভিডিও করলেন গান। এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অচিরেই ভাইরাল হয়ে গেল জ্যোতি মজুমদার। সে যে কামরায় যখন ওঠে তখন সেখানে নাকি ভিড় বেড়ে যায়। অন্তত আলিপুরদুয়ার-শিলিগুড়ি লাইনের নিত্যযাত্রীরা সে কথাই বলেন। জ্যোতি এখন অষ্টাদশী। তাঁর বাড়ি ধুপগুড়ির আংরাভাসা গ্রামে।

Advertisement

প্রতিভা কখনও চাপা থাকে না, ছাই চাপা আগুনের মতো, চোখ পড়েই। জ্যোতির গানও চোখে পড়েছে হাবড়ার বাসিন্দা প্লে ব্যাক সিঙ্গার কেশব দে’র। তিনি ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আর গানের ভিডিও তৈরির প্রস্তাব দেন। সোমবার ধূপগুড়ি থেকে রাজ্যের আর এক প্রান্ত হাবড়াতে বাবার সঙ্গে এসেছেন জ্যোতি। প্রথমে বেশ কয়েকদিন গানের তালিম নিয়েছেন। মঙ্গলবার হয়েছে রেকর্ডিং। জ্যোতির বাবা রবীন্দ্র মজুমদার মেয়ের আশাতীত সাফল্যে নিজেকে সামলাতে পারেননি। আনন্দে চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এসেছিল তাঁর। বললেন, ‘আমাদের পরিবার হতদরিদ্র। ট্রেনে গান গেয়ে সংসার চালাতাম। সেটাও শরীরের কারণে কার্যত বন্ধ। মেয়ে সাক্ষাৎ সরস্বতী। ওর জন্যই খেতে পাচ্ছি আজ। আশা করি কেশব স্যারের হাত ধরে আমাদের জীবনের অন্ধকার কাটবে।’
জ্যোতির বাড়িতে আছেন বৃদ্ধা ঠাকুমা, মা, ভাই ও বাবা। শ্রেয়া ঘোষাল ওঁর আদর্শ। আর শুনে তোলার চেষ্টা করেন লতা-আশার গায়কী। এখন দু-একটা অনুষ্ঠানে সুযোগ পাচ্ছেন। কিছু টাকা আসছে। সংসারে ধীরে হলেও ফিরছে সুদিন। মনে করছেন, রেকর্ডিংয়ের পর অনুষ্ঠানে গাওয়ার আরও ডাক আসবে। একটু নামডাক হবে। জ্যোতি বলেন, ‘স্বাবলম্বী হব আমিও।’ এখন লক্ষ্য, গান গাওয়ার সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচ শেখার। তার জন্য পেশাদার কোনও শিল্পীর কাছে তালিমের প্রয়োজন। ফলে কলকাতা আসারও পরিকল্পনা রয়েছে। রিয়েলিটি শো’তে যোগ দেওয়ার চেষ্টাও করবেন। এই লক্ষ্যে আপাতত এগিয়ে চলেছেন ট্রেনের সঙ্গীতশিল্পী জ্যোতি মজুমদার। এই কাজে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন কেশববাবু। তিনি বলেন, ‘আমি ওকে দিয়ে একটি গান রেকর্ড করাচ্ছি। এবার হয়ত অন্যান্য অনেকে এগিয়ে আসবেন। আমি ওঁর পাশে আছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ