সংবাদদাতা, কান্দি: প্রকাশ্যে ধূমপান করা নিয়ে কান্দি থানার আইসির সঙ্গে বচসায় জড়ালেন এক জুনিয়র ডাক্তার। এর পরই বাড়ি ফেরার পথে চিকিৎসকের উপর চলল দুষ্কৃতী হামলা। বাইক থামিয়ে লাঠিপেটা করা হয় তাঁকে। প্রাণ বাঁচাতে পচা পুকুরে ঝাঁপ দিলেন চিকিৎসক। শনিবার রাতের ওই ঘটনা কান্দি থানার পীরতলা এলাকার। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিস চিকিৎসককে উদ্ধার করেন। এই ঘটনার পরই কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই চিকিৎসক।
ওই জুনিয়র চিকিৎসক কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিমাসে তিনি তাঁর কান্দির বাড়িতে আসেন। শনিবার কলকাতা এসএসকেএম হাসপাতালে ওই চিকিৎসকের বাবার হার্টের অপারেশন হয়েছে। এরপর তিনি শনিবার সেখান থেকে কান্দির বাড়িতে ফেরেন।
আক্রান্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন, এদিন রাতে বহরমপুর সুলতানপুর রাজ্য সড়কের মনোহরপুর গ্রামের একটি ক্যাফের কাছে ওই চিকিৎসক বাইকে বসে ধূমপান করছিলেন। সেইসময় ক্যাফেতে কান্দির আইসি, আইসির স্ত্রী ও তাঁর ছেলে ছিলেন। চিকিৎসকের অভিযোগ, প্রথমে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁকে প্রকাশ্যে ধূমপান করতে নিষেধ করেন। কিন্তু সেই এলাকা ‘নো স্মোকিং জোন’ নয় বলে যুক্তি দেন চিকিৎসক। পরে আইসি নিজে এলেও বিতর্ক থামেনি। আইসির সঙ্গে চিকিৎসকের তীব্র বাদানুবাদ হয়।
চিকিৎসক বলেন, আইসি ও তাঁর পরিবার যেখানে ছিলেন, সেখান থেকে আমি প্রায় দেড়শো মিটার দূরে ধূমপান করছিলাম। কিন্তু আইসি আমাকে হুমকি দিয়ে মামলা ঠোকার কথা বলেন। এরপর সেখান থেকে চলে আসি বাড়ির দিকে। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথে তাঁর উপর চলল দুষ্কৃতী হামলা। এক্ষেত্রে চিকিৎসক জানান, আইসি’র সঙ্গে ঝামেলার প্রায় ৩০ মিনিট পর আমার উপর দুষ্কৃতী হামলা চলে। প্রথমে একটি বাইকে দু’জন দুষ্কৃতী এসে আমার বাইকের সামনে দাঁড়ায়। পিছনে আরও একটি বাইকে আরও দু’জন এসে হামলা শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার উপর চারজনেই লাঠি নিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। মারে কাতর হয়ে প্রাণে বাঁচতে পাশের পচা পুকুরে ঝাঁপ দিতে হয়। এরপর চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন চলে আসেন। দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।
চিকিৎসক আরও বলেন, ইচ্ছে থাকলেও আমি পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। কারণ অসুস্থ বাবা ঘটনার কথা জানতে পারলে সমস্যা বাড়বে। তবে যারা হামলা চালিয়েছিল, তাদের প্রত্যেকের মুখ কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। আমার অনুমান হামলার পিছনে কান্দির আইসির ইন্ধন রয়েছে।
যদিও কান্দির আইসি বলেন, আমি এতটা জঘন্য কাজ করতে পারি, এটা কেউ বিশ্বাস করবেন না। ইচ্ছে করলে আমি ওঁকে মামলায় জড়িয়ে দিতে পারতাম। আসলে ওই চিকিৎসক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। ওঁর ব্যবহার ছিল খুবই খারাপ। হামলার ঘটনার খবর পেয়ে আমিই তাঁকে গিয়ে উদ্ধার করে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
এদিকে এই ঘটনায় ওই চিকিৎসক রাজ্য সরকারের হোম সেক্রেটারি, চিফ সেক্রেটারি, কলকাতা পুলিসের চিফ সেক্রেটারি, মুর্শিদাবাদ পুলিস সুপার, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, গোটা বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনায় জেলা পুলিসের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি। তবে রবিবার অফিস ছুটি থাকায় অভিযোগ হাতে পাইনি। সোমবার অভিযোগ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।