Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিসের চোখে ধুলো দিতে রায়গঞ্জে কুঁড়েঘরে ডেরা বেধেছিল জঙ্গল শেখ

ওই কুঁড়েতে বসেই ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিল কাটোয়ার এই গ্যাংস্টার। শেষ অবধি অবশ্য পুলিসের হাত এড়াতে পারেনি।

পুলিসের চোখে ধুলো দিতে রায়গঞ্জে কুঁড়েঘরে ডেরা বেধেছিল জঙ্গল শেখ
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: পুলিসের চোখে ধুলো দিতে নিজের প্রাসাদোপম অট্টালিকা ছেড়ে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের একটি কুঁড়েতে ডেরা বেধেছিল জঙ্গল শেখ। বদলে ফেলেছিল নিজের চেহারাও। ওই কুঁড়েতে বসেই ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিল কাটোয়ার এই গ্যাংস্টার। শেষ অবধি অবশ্য পুলিসের হাত এড়াতে পারেনি। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বোলপুরে জঙ্গল গ্যাংয়ের দুই বিশ্বস্ত সদস্যের হাতে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়েছিল জঙ্গলের অনুগামী কিতাবুল শেখ ওরফে তারকাটা। জঙ্গল ও তার ছেলে সাদ্দামের নির্দেশে দুই বিশ্বস্ত সঙ্গীর মাধ্যমে কাটোয়ায় মজুত করেছিল আগ্নেয়াস্ত্র। জঙ্গলের নির্দেশ ছিল, ওইসব আগ্নেয়াস্ত্র কাটোয়া ও নদীয়া জেলায় গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। কিছুদিন বাদেই জঙ্গল ও সাদ্দাম কাটোয়ায় ঢুকত। শহরে খুন, লুটপাট সহ বড়সড় হামলার পরিকল্পনা ছিল। তখনই ওই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কাজে লাগাত। কিন্তু পুলিস সেই ছক ভেস্তে দেয়। ওই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে কাটোয়া শহরের কেশিয়া মাঠপাড়া এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। সেই মামলায় গত ১৪ আগস্ট রাতে নদীয়ার একটি নেশামুক্তি কেন্দ্র থেকে জঙ্গলপুত্র সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই জঙ্গলের হদিশ পায় পুলিস। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জঙ্গল গ্যাংয়ের অনেক সদস্যর কাছে এখনও প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  
পুলিস সূত্রে খবর, জঙ্গল শেখের নামে কাটোয়া থানায় ২৬টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ৫টি মামলা আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমের মশলা রাখার। একাধিক খুনের মামলাও রয়েছে। কাটোয়া থানা ছাড়াও পূর্বস্থলী, ভাতার, হুগলির খানাকুল, মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। স্ত্রী বুড়ি বিবিকে সঙ্গে নিয়েই একাধিকবার ডেরা বদলেছে সে। ২০২৪ সালে পুজোর আগে জঙ্গল জেল থেকে ছাড়া পায়। তারপর সে ঝাড়খণ্ড, কলকাতার দমদম, নদীয়া জেলা ঘুরে উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের একটি গ্রামে থাকতে শুরু করে। ছেলে সাদ্দামকে সঙ্গে নিয়ে সে নাকি ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছিল। 
শহরের অনেকেই বলছেন, জঙ্গল ধুরন্ধর দুষ্কৃতী। নিজে অন্তরালে থেকে শাগরেদদের দিয়ে বড়সড় ঘটনা ঘটাতে পারে। তার গ্যাংয়ের বহু সদস্য এখনও সক্রিয়। ছেলে সাদ্দামের মারফত বিহার, উত্তরপ্রদেশের বড় বড় গ্যাংস্টারদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। এর আগে ঝাড়খণ্ড থেকে পুরনো বাইক সংগ্রহ করেছিল কাটোয়ায় অপারেশনের জন্য। কিন্তু কাটোয়া থানার তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। দমদমে থাকার সময়ে জঙ্গল এক নামী ব্যক্তির কাছে গিয়েছিল কাটোয়া শহরে ফেরার অনুমতি নিতে। কিন্তু সেখান থেকে সবুজ সংকেত না পেয়ে ডেরা বদলাতে থাকে। বাসিন্দাদের আতঙ্ক, জঙ্গল গ্যাং শহরে ফিরলেই ফের গুলি, বারুদের গন্ধে ভরে উঠতে পারে কাটোয়া।  জঙ্গল শেখ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ