Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় বাকি থাকা ২৫ হাজার নথি যাচাই করবেন বিচারকরা, ৪০ হাজার নথি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন অবজার্ভাররা

বাঁকুড়ায় প্রাথমিকভাবে ‘সন্দেহভাজন’ ২৫ হাজার ভোটারের নথি যাচাই করবেন বিচারকরা। মঙ্গলবার থেকেই পুরোদমে জেলার জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

বাঁকুড়ায় বাকি থাকা ২৫ হাজার নথি যাচাই করবেন বিচারকরা, ৪০ হাজার নথি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন অবজার্ভাররা
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় প্রাথমিকভাবে ‘সন্দেহভাজন’ ২৫ হাজার ভোটারের নথি যাচাই করবেন বিচারকরা। মঙ্গলবার থেকেই পুরোদমে জেলার জুডিশিয়াল অফিসাররা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। যদিও প্রথমদিনে জেলার সাত বিচারক কতগুলি নথি যাচাই করেছেন, সেসম্পর্কে কোনো তথ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাতে পারেননি।

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ‘সন্দেহজনক’ মোট ৪০ হাজার ভোটারকে এর আগে মাইক্রো ও রোল অবজার্ভাররা চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ভোটারের নথি আমাদের আওতায় থাকা আধিকারিকরা যাচাই করেছিলেন। এখনো ২৫ হাজার ভোটারের নথি পরীক্ষা করার কাজ বাকি রয়েছে। তা বিচারকরা করবেন। তবে, তাঁদের মনে হলে মোট ৪০ হাজার ভোটারের নথিও ফের যাচাই করতে পারেন। পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের উপর নির্ভর করছে। এব্যাপারে আমাদের নির্ণায়ক ভূমিকা নেই। আমরা বিচারকদের চাহিদামতো তথ্য বা জমা পড়া নথি সরবরাহ করছি।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার মোট সাতজন বিচারক প্রথম দফায় এসআইআরের তথ্য যাচাই শুরু করেছেন। বাঁকুড়া সদর মহকুমার জন্য চারজন বিচারক নিযুক্ত হয়েছেন। তাঁরা জেলা কালেক্টরেটে বসে নথি যাচাই করছেন। বিষ্ণুপুর মহকুমার জন্য দু’জন বিচারককে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা বিষ্ণুপুর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন। খাতড়া মহকুমা শাসকের অফিসে বসে কাজ সারছেন একজন জুডিশিয়াল অফিসার। বিচারকদের সাহায্য করার জন্য একজন মাইক্রো অবজার্ভারকে ভার দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, প্রশাসনের আধিকারিকরা তাঁদের সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। জেলায় নো-ম্যাপিং ও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি মিলিয়ে নির্বাচন কমিশন মোট ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮২৩ জন ভোটারকে ‘সন্দেহজনক’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিল। তার মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ভোটার পূর্বের এসআইআরের সঙ্গে কোনো লিঙ্ক দেখাতে পারেননি। বাকিরাও নানা কারণে শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন। ডাক পাওয়া ভোটারদের মধ্যে ৭০০ জন শুনানিতে হাজির হননি। বাকিদের মধ্যে চার হাজার ভোটার শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েও নিজেদের দাবি সপক্ষে কোনো নথি দেখাতে পারেননি। ফলে ওই চার হাজার ভোটারের তথ্য নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা আপলোড করতে পারেননি। ‘সন্দেহভাজন’ ভোটারদের জমা পড়া নথি বিচারকরা খতিয়ে দেখছেন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নথি তাঁরা জমা দিতে পেরেছেন কি না, তা মূলত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তা দেখতে না পেলে সেইসব ভোটারকে সন্দেহজনক হিসাবেই চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন ব্লক এলাকায় জমা পড়া নথি আমরা মহকুমা স্তরে আনার ব্যবস্থা করেছি। বিচারকরা দেখতে চাওয়া মাত্র নথি তাঁদের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য কর্মী-আধিকারিকদের বলা হয়েছে। এব্যাপারে কর্মী বা আধিকারিকদের কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। পুরো বিষয়টি আদালতের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। সেই বিষয়টি মাথায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ