নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় আজ, মঙ্গলবার থেকেই বিচারকরা এসআইআর প্রক্রিয়ার নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার আটজন বিচারক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন। সেইসঙ্গে এসআইআরের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের কার্যত আর কোনো ভূমিকাই থাকল না। বিচারকরা ১৭টি বিধানসভার শুনানিতে আসা ভোটারদের নথি যাচাই করবেন। যদিও কোন ভোটারদের নথি যাচাই করা হবে, তা এখনো পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে, মনে করা হচ্ছে, লক্ষাধিক ভোটারের নথি যাচাই করতে হতে পারে বিচারকদের। এনিয়ে সোমবার বিচারকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠক হয়। এদিন দুপুরের দিকে বৈঠক শুরু হয়। চলে বিকেল পর্যন্ত। এই বৈঠকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি এবং নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। সেখানেই গোটা এসআইআরের বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সেইসঙ্গে কমিশনের পোর্টালে বিচারকদের আলাদা লগইন আইডি দেওয়া হয়।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বর্তমানে কমিশনের পোর্টালে নতুন করে নথি আপলোড করার কোনো সুযোগ থাকছে না। বিচারকরা জমা পড়া নথির ভিত্তিতেই ভোটারদের বৈধতা যাচাই করবেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় শুনানির জন্য ৮ লক্ষ ভোটারকে ডাকা হয়েছিল। তার মধ্যে ৭ লক্ষ ৪০ হাজার ভোটারের নথি যাচাই করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬০ হাজার ভোটারের নথি যাচাই বাকি রয়েছে। কারণ, গত শনিবার থেকে কমিশনের পোর্টাল জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের জন্য কার্যত ‘বন্ধ’ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, ইআরও এবং এইআরও’রা কমিশনের পোর্টালে কোনো কাজ করতে পারছেন না। এবার গোটা প্রক্রিয়াটি বিচারকদের তত্ত্বাবধানে থাকবে। মনে করা হচ্ছে, নিষ্পত্তি না হওয়া ৬০ হাজার ভোটারের নথি বিচারকরা যাচাই করতে পারেন।
সেইসঙ্গে নদীয়া জেলায় লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপড মিলিয়ে মোট ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ভোটারের বিরুদ্ধে ‘অবজেকশন’ জানিয়েছেন রোল অবজার্ভার এবং মাইক্রো অবজার্ভাররা। যার মধ্যে মাইক্রো অবজার্ভারদের তরফে আপত্তি তোলা ৯৮ হাজার এবং রোল অবজার্ভারের তরফে আপত্তি তোলা ৭৯ হাজার ভোটারের নথি যাচাই করা বাকি রয়েছে। যদিও এই সমস্ত ভোটারের নথি বিচারকদের যাচাই করতে হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, বিচারকরা কাদের নথি যাচাই করবেন তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ভোটারকে প্রাথমিকভাবে ‘ইনএলিজেবল’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মৃত, স্থানান্তরিতের নিরিখে ২ লক্ষ ১৬ হাজার ভোটারের নাম আগেই বাদ পড়েছিল। বর্তমানে নিষ্পত্তি না হওয়া এবং অবজার্ভারদের তরফে অবজেকশন জানানো মোট ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ভোটারের ভবিষ্যৎ এখনো ঝুলে রয়েছে।