Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের বিচারকদের মেল করে হুমকি, ভুয়ো মেলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, দাবি পুলিশের

মঙ্গলবারের পর বুধবারও ফের বোমাতঙ্কের ই-মেল। মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের বিচারকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মেল আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।

ফের বিচারকদের মেল করে হুমকি, ভুয়ো মেলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, দাবি পুলিশের
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মঙ্গলবারের পর বুধবারও ফের বোমাতঙ্কের ই-মেল। মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের বিচারকদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মেল আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। কিন্তু এমন মেল-হুঁশিয়ারি দিচ্ছে কে? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, ভুয়ো মেল পাঠিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ আধিকারিকরা। 

Advertisement

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যের বিচারকদের নিয়োগ করার পর এ ধরনের হুমকি-মেল আসছে। রাজ্যের অন্যান্য আদালতের পাশাপশি মঙ্গলবার সকালে বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের জেলা জজের ই-মেলে বিচারকদের উদ্দেশে হুমকি দেওয়া হয়। কোর্ট চত্বরে বিভিন্ন কোনায় বোমা রাখা রয়েছে বলে দাবি করা হয় ওই মেলে। বিষয়টি জানাজানি হতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় মুর্শিদাবাদে জেলা আদালতে। দিনভর তল্লাশি চালিয়েও কোনো বোমা মেলেনি। বুধবারও আদালত চত্বরে ফের বোমা রাখা রয়েছে বলে দাবি করে একটি মেল আসে। পুলিশ তড়িঘড়ি সক্রিয় হয়ে আদালত চত্বরে অভিযান চালায়। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরাও আদালতের বিভিন্ন জায়গায় ডিপ সার্চ মেটাল ডিটেক্টর এবং নন লিনায়ার জংশন ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালান। তবে কোনো বোমার হদিশ মেলেনি। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়েই আদালত চত্বরে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা। 
জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, গতকালের পর এদিনও বোমাতঙ্কের একটি মেল আসে। এই বোমাতঙ্কের মেল কারা ছড়াচ্ছে, তা আমরা খোঁজ করছি। শুধু এ রাজ্যে নয়। বিভিন্ন রাজ্যে এরকম মেল পাঠানো হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য কি, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের ডিস্ট্রিক্ট জজ নাজির মঙ্গলবারের ঘটনায় সাইবার ক্রাইম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, ডিস্ট্রিক্ট জজের অফিসিয়াল মেলে সকাল প্রায় আটটা নাগাদ একটি মেল আসে। সেখানে বলা হয় দুপুর একটা নাগাদ সাতটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। মেল পেয়েই নড়েচড়ে বসে আদালত কর্তৃপক্ষ। সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন তাঁরা। পুলিশ আদালতের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। 
মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী কল্পতরু ঘোষ বলেন, ‘মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশে নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের কাজ চলছে। ডিস্ট্রিক্ট জজ এবং অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজদের এসআইআরের ভেরিফিকেশন করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। বিচারক ও বিচারপতিদের নিযুক্ত করার আগে পর্যন্ত এমন কখনও মেল আসেনি বা কেউ ফোন করেনি। বোমা রাখা আছে এবং উড়িয়ে দেওয়া হবে এমন মেল সুপ্রিম নির্দেশের পর আসতে শুরু করেছে। এটা ঠিক নয়। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করুক।’
আইনজীবীদের আরও দাবি, আদালতে যখন দেখি কোনো মামলায় অভিযুক্তদের হাজির করানো হয়, তখন ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের সঙ্গে আসামির পরিচয় মিলিয়ে দেখা হয়। লাগাতার এই ভিরিফিকেশনের কাজ কিন্তু বিচারকরা করেন। এক্ষেত্রে এসআইআরে জজ সাহেবরা মানুষকে মুক্তি দিতে পারেন। তাই তাদেরকে নিয়োগ করা হচ্ছে। বাইরের রাজ্য থেকে এই হুমকির মেল আসছে। নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে যারা ভোটারদের নাম বাদ দিতে চাইছে, এই কাজ তাদের বলেই মনে করা হচ্ছে। 
কল্পতরুর সংযোজন, ‘মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে এটাই তো দাবি করেছিলেন। যেভাবে নির্বাচন কমিশন মানুষকে হয়রানি করছিল, তার থেকে রেহাই দিতে শেষমেষ পশ্চিমবঙ্গের বিচারক ও বিচারপতিদের নামানো হয়েছে। তাই তাঁদেরকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ