নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: একটিও বসার বেঞ্চ অবশিষ্ট নেই। নেই কোনো বাতি। চারিদিকে শুধু আবর্জনা, প্লাস্টিক, মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্টিলের ব্যারিকেড। জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দপ্তরের পিছনে অবস্থিত শহরের ঐতিহ্যবাহী জুবিলি পার্কের ঠিক একই চিত্র ধরা পড়ল। পাশেই জেলাশাসকের দপ্তর থেকে শুরু করে নানা সরকারি দপ্তরের কার্যালয়। তবে সন্ধ্যা নামতেই ঘন অন্ধকারে ছেয়ে যায় জুবিলি পার্ক। আর সেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়েই সমাজবিরোধীরা নেশার আসর জমায় এই পার্কে। কোথাও নজরদারি ব্যবস্থা বলতে কিছু নেই। শহরের পুরাতন তিস্তা উদ্যানের পাশে অবস্থিত জুবিলি পার্কের এই দশায় রীতিমতো হতাশ শহরবাসীর একাংশ। সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য ও অসামাজিক কার্যকলাপ ঠেকাতে প্রশাসনের বাড়তি নজরদারির দাবি তুলেছেন শহরের বাসিন্দারা।
এক সময় সন্ধ্যা হলেই ভিড় নামত সাধারণ মানুষের। একদিকে নদী ও অন্যদিকে সবুজ প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে সময় কাটাতে আসতেন আট থেকে আশি। কিন্তু করলা নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। এখন আর সাধারণ মানুষ এই পথে পা বাড়ান না। পার্কে ঢুকতেই দেখা যায় বসার সিমেন্টের বেঞ্চগুলি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও আবার একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। নদীর সামনে নিরাপত্তার জন্য বসানো স্টিলের রেলিং উধাও। কোথাও আবার ভেঙে পড়ে রয়েছে তার কিছু অংশ। এমনকী নিশ্চিহ্ন হয়েছে প্রতিস্থাপকের নামের ফলক। সন্ধ্যা গড়াতে না গড়াতেই ওই এলাকায় ব্রাউন সুগার থেকে শুরু করে নানান মাদক সামগ্রী নিয়ে সমাজবিরোধীরা ভিড় জামায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। আর সেই কারণেই সেখানে লাগানো পথবাতিগুলি একটার পর একটা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
এমনকী পার্কের ভেতরে থাকা শৌচালয়ের অবস্থা দেখলে যে কোনো মানুষের ভয় হবে। নেই দরজা। ভিতরে পড়ে রয়েছে কাচের ভাঙা বোতল, পুরনো জামা, নানান নেশার সামগ্রীর অংশ। স্থানীয়দের দাবি, মাঝেমধ্যে পুলিশের অভিযান চললেও লাগাতার কড়া অবস্থান যদি প্রশাসনের তরফে না হয় তাহলে আগামীতে যে কোনোদিন বড়সড় অঘটনের খবর মিলবে পার্কের ভিতর থেকে।
এপ্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, আমরা লাগাতার ওই পার্কের ভেতরে অভিযান চালাই। রাতেও নজরদারি থাকে। উৎসবের মরশুমে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। • নিজস্ব চিত্র।



